স্বাস্থ্যঅফিসে ছুটি পেতে করণীয়: বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
অফিসে ছুটি পেতে করণীয়: বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ছুটি পেতে কর্মীদের কী করা উচিত, সে বিষয়ে মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে। এতে আইন ও নীতি মেনে চলার পাশাপাশি সম্পর্ক উন্নয়ন ও সঠিক পরিকল্পনার গুরুত্ব জানানো হয়েছে।
অনেক কর্মীর মধ্যে অভিযোগ থাকে যে তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটি মঞ্জুর করেন না। এমন পরিস্থিতিতে বসের সঙ্গে বিবাদে জড়ানো কিংবা চাকরি ছেড়ে দেওয়া কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। ছুটির সমস্যা সমাধানের জন্য মানবসম্পদবিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠানের মুখ্য পরামর্শক কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
একজন কর্মীর ছুটি পাওয়ার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কিছু কাজ সামলানোও তাঁর দায়িত্ব। কর্মসংস্থানের বর্তমান সংকটে বিকল্প চাকরি খুঁজে পাওয়া সহজ নয়, তাই ছুটির সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। আবেগের বশবর্তী হয়ে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশের শ্রম আইনে একজন কর্মীর শ্রমঘণ্টা এবং প্রাপ্য ছুটির বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। কর্মী যে প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেন, তাদেরও ছুটিসংক্রান্ত নিজস্ব নীতিমালা থাকে। কর্মীদের উচিত উভয় নীতিমালা পর্যালোচনা করা এবং কোনো প্রতিষ্ঠান শ্রম আইনের ব্যত্যয় ঘটালে মানবসম্পদ বিভাগে এ বিষয়ে কথা বলা।
ছুটির নানা ধরন থাকে; কিছু ছুটি এক বছরের মধ্যেই নিয়ে ফেলতে হয়, আবার কিছু ছুটি পরবর্তী কয়েক বছর পর্যন্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে। অর্জিত ছুটি উপভোগ না করলে এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। কিছু ছুটির ক্ষেত্রে আবার সেদিনের বেতন কেটে রাখা হতে পারে, যা লিভ উইদাউট পে নামে পরিচিত।
বিশেষ কোনো ছুটির দিনে কোনো কর্মী কাজ করলে পরবর্তীকালে তিনি সেই ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন কি না, কিংবা এর জন্য কোনো অতিরিক্ত ভাতা পাবেন কি না, তা জেনে রাখা উচিত। চাকরিতে ঢোকার আগেই এসব বিষয় জেনে নেওয়া ভালো, অথবা পরে বিস্তারিত জেনে নিলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা কমে।
কোনো প্রকল্প বা কাজ ফেলে রেখে ছুটির আবেদন করা উচিত নয়। তবে হুট করে কোনো জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে, যেমন পরিবারের কারও বিপদাপদ হলে ভিন্ন কথা। এসব ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানাতে হয় এবং পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শপত্রের মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
ছুটির অধিকার নিশ্চিত করতে সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক রাখা জরুরি। একজন কর্মী যখন ছুটিতে থাকবেন, তখন সহকর্মীরা তাঁর দায়িত্ব সামলাবেন; আবার অন্য সহকর্মী ছুটি নিলে তাঁর দায়িত্ব পালন করার মানসিকতাও থাকতে হবে। একে অন্যের অনুপস্থিতিতে কাজ সামলে নেওয়ার ব্যাপারে বোঝাপড়া থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে অযথা বিবাদে জড়ানো উচিত নয়। ছুটির প্রয়োজন হলে ভদ্রতা বজায় রেখে নিজের প্রয়োজনের কথা তাঁকে জানাতে হবে। ছুটির আবেদনের সঙ্গেই নিজের কাজ কীভাবে সম্পন্ন হবে, যেমন ছুটির আগেই ডেডলাইনের কাজ শেষ করা হবে, সেটির একটি লিখিত পরিকল্পনা দিয়ে রাখা ভালো।
নিজের অনুপস্থিতিতে কোন সহকর্মী দায়িত্ব সামলাবেন, তা-ও বসকে জানিয়ে রাখতে হবে। এ ছাড়া কর্মীদের মধ্যে কে কখন ছুটি নেবেন, সে বিষয়ে বছরের শুরুতেই সবাই মিলে পরিকল্পনা করে নেওয়া উচিত। এতে করে পরিকল্পিত ছুটি পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা কমে আসে এবং পরিকল্পিত ছুটির ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময় আগে জানানোর নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক।
অধিকার আর দায়িত্বের সব হিসাব-নিকাশ ঠিক থাকার পরও যদি বস ছুটি না দেন, কিংবা জরুরি প্রয়োজনেও ছুটি অনুমোদন করতে না চান, তবে এটি একটি সমস্যার কারণ। এসব ক্ষেত্রে বোঝাপড়া ও সঠিক পরিকল্পনার প্রতি কর্মীর আরও জোর দেওয়া উচিত। তারপরও যদি অন্যায়ভাবে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়, তবে বসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা মানবসম্পদ বিভাগকে বিষয়টি জানানো যেতে পারে।
কোন কোন সময় তিনি অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, তা লিখিতভবে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা ভালো। অতি আবেগময় হয়ে পড়া বা সাতপাঁচ না ভেবেই চাকরি ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। অনুমোদন ছাড়া ছুটি কাটালে কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং চাকরি হারানোর ঝুঁকিও সৃষ্টি হতে পারে। কিছু পেশায় জরুরি দায়িত্ব সামলাতেই হয়, তাই পরিবার ও বন্ধুদেরও বোঝানো উচিত যে হুট করে ছুটির ব্যবস্থা করা কতটা কঠিন।
মতামত (0)