জাতীয়পাবনায় শিশু কলিকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা, দুই আসামি গ্রেপ্তার
পাবনায় শিশু কলিকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা, দুই আসামি গ্রেপ্তার
পাবনার কুলুনিয়ায় ১০ বছর বয়সী শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলা হয়। এই ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে রাখা হয়। এই ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুলুনিয়া গ্রামের মোস্তফা কামাল (৫৫) এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণসারা গ্রামের ইয়াছিন আলী (২১)। ইয়াছিন বর্তমানে কুলুনিয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই শিশুটিকে খুঁজতে বের হন বলে পুলিশের তদন্তে জানা গেছে। তারা নিখোঁজ কলিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর তল্লাশি কার্যক্রমেও অংশ নেন। এমনকি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলেও অংশগ্রহণ করেন।
গতকাল সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ এসব তথ্য জানান। আসামিদের দেওয়া তথ্য, মোবাইল ফোনের ডিজিটাল আলামত এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুলুনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হয়। ওই দিন মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিন আলী শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের শোবার ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তারা দুজনে মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের পর ঘটনা জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। প্রথমে একটি হলুদ প্লাস্টিকের বস্তায় মরদেহ ভরে মোস্তফার ঘরের খাটের নিচে রাখা হয়।
একদিন পর রাতে মরদেহসহ বস্তাটি সাদা রঙের আরেকটি বস্তার ভেতরে ঢোকানো হয়। এরপর দুটি ইট বস্তার সঙ্গে বেঁধে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ঝোঁপঝাঁড় ও লতাপাতার নিচে পানিতে ডুবিয়ে রাখেন অভিযুক্তরা।
পুলিশ সুপারের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আসামিরা ডোবা থেকে মরদেহটি তুলে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। বস্তাটি একটি সেফটি ট্যাংকের কাছে নেওয়ার সময় মরদেহ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। একই সময় কুকুরের ডাক শুনে ভয় পেয়ে তারা বস্তাটি সেখানে ফেলে পালিয়ে যান। পরের দিন সকালে মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।
তদন্তে মোস্তফা কামালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে কলি তার ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে মোস্তফার দোকানে যায়। ওই সময় মোস্তফা শিশুটির একাধিক ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ছবিগুলো মুছে ফেললেও প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, ময়নাতদন্তে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কলি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ রিমান্ডে হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না, ধর্ষণ ও হত্যার পুরো ঘটনা এবং মরদেহ গুমের পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় গতকাল তদন্তভার পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মতামত (0)