জাতীয়

পররাষ্ট্রনীতিতে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার: সংসদীয় কমিটি

পররাষ্ট্রনীতিতে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার: সংসদীয় কমিটি
পররাষ্ট্রনীতিতে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার: সংসদীয় কমিটি
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগের সুপারিশ করা হয়।

জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে দেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব থাকবে বলে জানানো হয়, তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্বারোপ করেছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত সময়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা বর্তমানে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নিরাপদ অভিবাসন ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাইগ্রেশন উইং চালু করা হয়েছে। দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে ‘সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান’ করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও বলা হয়।

বৈঠকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানানো হয়। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

কমিটি আগামী অক্টোবর মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করে। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সানজিদা ইসলাম অংশগ্রহণ করেন।

কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...