জাতীয়পদ্মা ব্যারাজ: ২৬ জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তরের মেগা প্রকল্প
পদ্মা ব্যারাজ: ২৬ জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তরের মেগা প্রকল্প
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারাজ দেশের ২৬ জেলার অর্থনৈতিক বিপ্লবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। এটি কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও মৎস্য খাতে পরিবর্তন আনবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারাজ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপ্লবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশের ২৬ জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে। এটি একটি অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তি।
মন্ত্রী আজ শুক্রবার রাজবাড়ী জেলার পাংশার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সাইট পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন। তিনি জানান, এর বাস্তবায়ন হলে কৃষি বিপ্লব হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সময় এই প্রকল্পটির কারিগরি সমীক্ষা করা হয়েছিল। আজকে ২০২৬ সালে এসে তা বাস্তবায়ন করার জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এ পাস করানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পের বিষয়ে ওয়াদা দিয়েছিলেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসের যে কোনো সময়ে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের উদ্বোধন করবেন। মন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। সেই লক্ষ্যে মাঠের কারিগরি সমীক্ষা বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ টিম মন্ত্রীর সঙ্গে এসেছে। এটি সাত বছর মেয়াদি একটি দেশীয় অর্থায়নের প্রকল্প।
এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সভাপতি আসলাম মিয়াসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অনেকে এই পরিদর্শনে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩ মে একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এই প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ব্যারাজটি দুই দশমিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এবং এতে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট থাকবে, যার প্রতিটি ১৮ মিটার প্রশস্ত। এছাড়াও ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ১৪ মিটার প্রশস্ত একটি নেভিগেশন লক এবং দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিশ পাস অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ব্যারাজের ওপর দিয়ে একটি রেলওয়ে সেতু নির্মিত হবে। পাশাপাশি প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই ব্যারাজটি বাস্তবায়ন হলে রাজবাড়ীসহ দেশের ২৬ জেলার মানুষ এর সুবিধা পাবে।
মতামত (0)