প্রযুক্তি

ফান্ডেডনেক্সট পেল মধ্যপ্রাচ্যের সেরা ফিনটেক উদ্ভাবন পুরস্কার

ফান্ডেডনেক্সট পেল মধ্যপ্রাচ্যের সেরা ফিনটেক উদ্ভাবন পুরস্কার
ফান্ডেডনেক্সট পেল মধ্যপ্রাচ্যের সেরা ফিনটেক উদ্ভাবন পুরস্কার
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ফান্ডেডনেক্সট ‘বেস্ট ফিনটেক ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে, যা এন্টারপ্রেনিউর মিডল ইস্ট প্রদান করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফান্ডেডনেক্সট একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘বেস্ট ফিনটেক ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছে। এই সম্মাননা ব্যবসায়িক সাময়িকী এন্টারপ্রেনিউরের মধ্যপ্রাচ্য সংস্করণ ‘এন্টারপ্রেনিউর মিডল ইস্ট’ প্রদান করেছে।

দুবাইভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যমটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘এন্টারপ্রেনিউর’ ম্যাগাজিনের আঞ্চলিক ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে কাজ করে। মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনসংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ ও তথ্য তারা নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে থাকে। এই পুরস্কার তাদের নিয়মিত আয়োজনের অংশ।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ের আল হাবতুর প্যালেসে আয়োজিত হয়েছিল। একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফান্ডেডনেক্সটকে এই সম্মাননা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।

ফান্ডেডনেক্সটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আবদুল্লাহ জায়েদ এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা গ্রহণ করেন। তিনি মঞ্চে উঠে পুরস্কার গ্রহণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন।

পুরস্কার গ্রহণকালে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সৈয়দ আবদুল্লাহ জায়েদের সঙ্গে ছিলেন। এর মধ্যে চিফ প্রোডাক্ট অ্যান্ড গ্রোথ অফিসার ডানা ম্যাসি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও চিফ লিগ্যাল অফিসার আনাক্লদিয়া ফিলাদোরোও এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কার জয়ের পর সৈয়দ আবদুল্লাহ জায়েদ তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি তার বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। বিশ্বজুড়ে অনেক দক্ষ ট্রেডার থাকলেও, তাদের মধ্যে অনেকে সঠিক মূলধনের অভাবে নিজেদের কৌশল প্রয়োগ করতে পারেন না বলে তিনি জানান।

এই আর্থিক ব্যবধান দূর করাই ফান্ডেডনেক্সটের লক্ষ্য বলে সৈয়দ আবদুল্লাহ জায়েদ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "সেই আর্থিক ব্যবধান ঘোচাতেই ফান্ডেডনেক্সটের জন্ম।" এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত সেই দক্ষ ট্রেডারদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যারা আর্থিক সহায়তা ছাড়া তাদের ট্রেডিং ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেন না।

ফান্ডেডনেক্সট শুধু মূলধনের জোগানই দিচ্ছে না, একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্যও কাজ করে যাচ্ছে। সৈয়দ আবদুল্লাহ জায়েদ জানান, "প্ল্যাটফর্মটিকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে।" এই ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে ট্রেডাররা প্রয়োজনীয় সব সুবিধা পাবেন।

ফান্ডেডনেক্সট তার কার্যক্রম ২০২২ সালে শুরু করে। এটি নেক্সট ভেঞ্চারসের একটি ফ্ল্যাগশিপ পণ্য হিসেবে বাজারে আসে। বর্তমানে বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে তাদের সেবা বিস্তৃত রয়েছে, যা তাদের বৈশ্বিক পদচিহ্নকে নির্দেশ করে।

নেক্সট ভেঞ্চারসের অধীনে এফএনমার্কেটস নামের একটি নিয়ন্ত্রিত ব্রোকারেজ হাউসও পরিচালিত হয়। এটি ফান্ডেডনেক্সটের মূল কোম্পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ব্রোকারেজ হাউস নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের সেবা প্রদান করে।

ফান্ডেডনেক্সটের মূল সদর দপ্তর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত। পাশাপাশি, মালয়েশিয়া, সাইপ্রাস ও শ্রীলঙ্কায় তাদের আঞ্চলিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অপারেশনাল হাব রয়েছে। এই হাবগুলো বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকদের সেবা প্রদান করে।

বাংলাদেশের ভূমিকা ফান্ডেডনেক্সটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যাক-অফিস হাব হিসেবে কাজ করে। এখান থেকে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশে নেক্সট বাংলাদেশ লিমিটেড পাঁচ শতাধিক কর্মীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি উল্লেখযোগ্য অবদান। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বৈদেশিক রেমিট্যান্স অর্জনকারী শীর্ষ সংস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

এছাড়াও, নেক্সট ভেঞ্চারস ‘গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক’ স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এটি কর্মীদের জন্য একটি ইতিবাচক এবং উৎপাদনশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

ফান্ডেডনেক্সট পূর্বেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি লাভ করেছে। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত ডেলয়েট টেকনোলজি ফাস্ট ৫০ (মধ্যপ্রাচ্য ও সাইপ্রাস অঞ্চল) তালিকায় তারা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই তালিকায় ২০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফান্ডেডনেক্সট দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

ফিনটেক শ্রেণিতে ফান্ডেডনেক্সট ছিল এই তালিকার সর্বোচ্চ স্থান অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান। এটি ফিনটেক শিল্পে তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধির প্রমাণ। তাদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এই স্থান অর্জনে সহায়তা করেছে।

ডেলয়েটের ইএমইএ টেকনোলজি ফাস্ট ৫০০ তালিকায় ফান্ডেডনেক্সটের অবস্থান ছিল ১১তম। এই তালিকায় তাদের চার বছরের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ৪ হাজার ৫৫৩ দশমিক ২ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছিল। এই তথ্য তাদের শক্তিশালী আর্থিক প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ফাইন্যান্স ম্যাগনেটস পুরস্কারে ফান্ডেডনেক্সট ‘গ্লোবাল প্রপ ফার্ম অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছিল। এই পুরস্কারটিও তাদের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এবং শিল্পে তাদের নেতৃত্ব প্রমাণ করে। এই অর্জনগুলো তাদের ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...