জাতীয়

গাজীপুর রাজবাড়ী মাঠে মেলার অনুমতি বাতিল, হাইকোর্টে রিট আবেদন

গাজীপুর রাজবাড়ী মাঠে মেলার অনুমতি বাতিল, হাইকোর্টে রিট আবেদন
গাজীপুর রাজবাড়ী মাঠে মেলার অনুমতি বাতিল, হাইকোর্টে রিট আবেদন
গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা আয়োজনের অনুমতি বাতিলকে কেন্দ্র করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজক জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন।

গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা আয়োজনের অনুমতি বাতিল হওয়ার পর নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি বাতিলের পরও মেলার জন্য নির্মিত অস্থায়ী স্থাপনা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম এখনো মাঠে রয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।

মাঠের ফাঁকা জায়গায় স্থানীয় কিশোরদের খেলাধুলা করতে দেখা যাচ্ছে। তারা দ্রুত সব স্থাপনা সরিয়ে ঐতিহাসিক মাঠটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।

‘ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা-২০২৬’ আয়োজনের জন্য ও.এফ. এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মোঃ ওমর ফারুক বিপুল জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলেন। আবেদনে ১৫ আগস্ট থেকে ৪৫ দিনের জন্য অথবা একটি সুবিধাজনক সময়ে মেলা আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়। পরবর্তীতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে ২৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে ৩০ দিনের জন্য গাজীপুরের রাজবাড়ী মাঠে মেলা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

এই অনুমতিপত্রে মেলাকে অরাজনৈতিক রাখা, সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কোনো ব্যানার-ফেস্টুন না টাঙানোসহ একাধিক শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আশপাশের রাস্তায় দোকান না বসানো, মাদক, জুয়া, লাকি কুপন, হাউজি কিংবা অনৈতিক ও অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার শর্ত ছিল। যানজট নিয়ন্ত্রণ, ৩৬০ ডিগ্রি সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পৃথক প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার শর্তও ছিল।

শর্তের কোনো একটি ভঙ্গ হলে বা পালনে ব্যর্থ হলে কারণ দর্শানো ছাড়াই মেলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা প্রশাসন সংরক্ষণ করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। মেলা আয়োজক মোঃ ওমর ফারুক বিপুল হাইকোর্টে দাখিল করা রিট আবেদনে দাবি করেছেন যে, তিনি মেলা আয়োজনের জন্য গাজীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অনুকূলে ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে এনআরবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন। উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে ১২০টি স্টল বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বরাদ্দ দেওয়ার কথা রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিট আবেদনে আরও দাবি করা হয়, স্টল, শেড, সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে এক কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দাবি রিটকারীর বক্তব্য ও দাখিল করা নথির ভিত্তিতে করা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব দাবির বিষয়ে আলাদা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজবাড়ী মাঠে দীর্ঘমেয়াদি মেলা আয়োজনের উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয়ভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়। ‘গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন’সহ নাগরিক সমাজের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে বিএনপি, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দ গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়ার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে দীর্ঘমেয়াদি মেলা আয়োজন বন্ধ করে মাঠটি শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং সাধারণ মানুষের উন্মুক্ত ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়। নাগরিকদের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্মারক নম্বর ০৫.৪১.৩৩০০.০১৪.০৭.০০২.২৬.১৪৮২-এর মাধ্যমে পূর্বে দেওয়া মেলা আয়োজনের অনুমতি বাতিল করে।

জেলা প্রশাসনের এই অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মোঃ ওমর ফারুক বিপুল সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। রিটে ২০ আগস্টের বাতিল আদেশকে বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণার আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে রাজবাড়ী মাঠে ৩০ দিনের জন্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকসহ গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার, গাজীপুরের পুলিশ সুপার, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার (গোপনীয় শাখা), গাজীপুর পল্লী বিদ্যুতের উপ-মহাব্যবস্থাপক এবং গাজীপুর সদর থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটের নোটিশে অ্যাটর্নি জেনারেল ফর বাংলাদেশের উদ্দেশে জানানো হয়েছে যে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে আবেদনটি হাইকোর্ট বিভাগের ১৪ নম্বর আদালতে উপস্থাপন করা হবে। পিটিশনারের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোঃ শহিদুল ইসলাম নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...