আন্তর্জাতিক

রাবিতে সাংবাদিক হামলায় হল প্রভোস্ট প্রত্যাহার, তদন্তের নির্দেশ

রাবিতে সাংবাদিক হামলায় হল প্রভোস্ট প্রত্যাহার, তদন্তের নির্দেশ
রাবিতে সাংবাদিক হামলায় হল প্রভোস্ট প্রত্যাহার, তদন্তের নির্দেশ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সিন্ডিকেট সভায় প্রতিবেদন উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমানকে তার পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত রোববার রাতে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে গত সোমবার দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত এক সমঝোতা বৈঠকের পর এসব পদক্ষেপের ঘোষণা আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হামলার ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের জন্য তিন দিনের (৭২ ঘণ্টা) সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এই তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর একটি বিশদ প্রতিবেদন আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রশাসন সেদিন সন্ধ্যায় একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেছে, যেখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তুলেছিলেন যে সিসিটিভির ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে। তবে, প্রাথমিক তদন্তে এই ফুটেজ মুছে ফেলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টকে সরাসরি দায়ী করা যায়নি। এরপরও সার্বিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চাপ বিবেচনায় প্রশাসন প্রভোস্টকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে উপাচার্য উল্লেখ করেন।

উপাচার্য আরও দৃঢ়ভাবে বলেন, চলমান তদন্ত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এই হামলায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেকের জন্য উপযুক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ছয় দফা সুনির্দিষ্ট দাবি উপস্থাপন করেছিলেন। তাদের প্রথম ও প্রধান দাবি ছিল, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা। একইসঙ্গে, হামলায় সরাসরি জড়িত সকল শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কারের দাবিও জানানো হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে আরও ছিল, তদন্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে শেষ হওয়ার পর একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে হামলায় জড়িত সকল শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা। এছাড়া, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন, তাদের সকল সনদ বাতিল করে ক্যাম্পাসে তাদের প্রবেশাধিকার চিরতরে নিষিদ্ধ করার দাবিও উত্থাপন করা হয়।

শিক্ষার্থীরা শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে সিসিটিভির ফুটেজ মুছে ফেলা এবং হামলাকারী শিক্ষার্থীদের সমর্থন করার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এছাড়াও, ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগের দাবিও আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়েছিল।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...