আন্তর্জাতিকজি-৭ জোটের জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত
জি-৭ জোটের জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত
জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে জি-৭ জোট আগামী চার মাসে জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ সাতটি শিল্পোন্নত দেশের জোট, যা জি-৭ নামে পরিচিত, আগামী চার মাসের মধ্যে তাদের জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা প্রশমিত করে একটি টেকসই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এই সমন্বিত পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
জি-৭ জোটের নেতারা একটি জরুরি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সমন্বিত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে নেতারা এই বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। এই আলোচনার মূল প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউরোপের দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে; যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে তাদের মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিল এবং এমনকি নিজেদের ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছিল।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি বিস্তারিত যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা ও পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো হয়। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জি-৭ ভুক্ত সাতটি দেশ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (International Energy Agency) মাধ্যমে চার মাসের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মোট ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি সরবরাহ অবিলম্বে শুরু করতে সম্মত হয়েছে। নেতারা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্মত হয়েছেন যে, অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি রপ্তানির ওপর কোনো প্রকার বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না, যা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে অবাধ ও কার্যকরী রাখতে সহায়তা করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জি-৭ এর এই জরুরি মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ের ঘোষণার পর তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প তার পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "ইউরোপ তাদের প্রচুর পরিমাণে মজুত করা ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি "অবিলম্বে শুরু হবে," যা দ্রুত বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দেয়।
হোয়াইট হাউজ যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির উচ্চমূল্য কমানোর জন্য অত্যন্ত মরিয়া ছিল, যা এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে বিশেষভাবে জার্মানি এবং ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের জরুরি ডিজেল মজুত উন্মুক্ত করার জন্য তীব্র চাপ প্রয়োগ করেছিল। ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন যে, যদি এই দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত উন্মুক্ত না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানিতে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।
এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায়, জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ডিজেলের মজুদ ছেড়ে দেওয়ার একটি ফরাসি প্রস্তাব নিয়ে গত শুক্রবার (২ অক্টোবর, ২০২৬) ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বিস্তারিত আলোচনা করে। এই আলোচনার পরপরই একটি যৌথ পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের নিয়ে একটি জরুরি ভিডিও কনফারেন্সের আহ্বান করেন। এই ভিডিও কনফারেন্সে জি-৭ এর অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র যেমন ব্রিটেন, জাপান, কানাডা, জার্মানি এবং ইতালি সহ সকল গুরুত্বপূর্ণ নেতারা অংশগ্রহণ করেছিলেন।
মতামত (0)