আন্তর্জাতিক

ইরান উত্তেজনা ও সরবরাহ সংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি

ইরান উত্তেজনা ও সরবরাহ সংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
ইরান উত্তেজনা ও সরবরাহ সংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং চীনের রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত এই মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানকে ঘিরে নতুন করে তৈরি সামরিক উত্তেজনা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী ডিজেল সংকট সমাধানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও বাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ এখনো বিরাজ করছে, যা তেলের মূল্যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ২৯ সেন্ট বেড়ে ১০২.৬০ ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। অন্যদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম শুরুতেই ব্যারেল প্রতি ২৭ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৯৩.১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে এবং এর ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর পুনরায় সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে। এই লক্ষ্যে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সাথে অতিরিক্ত ১০ হাজার পর্যন্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে এমন খবরও ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই সামরিক প্রস্তুতির খবর প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করে অনেকটাই বেড়ে যায়।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিষয়ে একটি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, "এখন আমাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা (ইরান) হয় একটি অত্যন্ত ন্যায্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে, নয়তো তাদের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।" প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল সরবরাহকারী দেশ চীন অক্টোবর মাসে তাদের অধিকাংশ জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও চাপের মুখে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কিছু ইতিবাচক ঘটনা তেলের বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা প্রশমিত করেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে, যা বাজারে সরবরাহ কিছুটা স্থিতিশীল করেছে। এছাড়া, ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের জরুরি ডিজেল রিজার্ভ ছেড়ে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...