জাতীয়রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন না সাবেক রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন না সাবেক রাষ্ট্রপতি
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় দুঃখ ও বিব্রতবোধ করেছেন।
দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুঃখ ও বিব্রতবোধ করেছেন। রবিবার বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, কূটনীতিক, প্রধান বিচারপতি ও তিন বাহিনীর প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতির কারণ জানতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না। বঙ্গভবনের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও একই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের মূল দায়িত্ব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের। সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য আসন রাখার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় সে অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তিনি শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি। বিষয়টি নিয়ে তিনি ‘দুঃখিত ও বিব্রত’ বলে উল্লেখ করেন।
মো. সাহাবুদ্দিন এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, আগের তুলনায় তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। পা ফুলে যাওয়ায় তার স্বাভাবিক হাঁটাচলাতেও সমস্যা হচ্ছে। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি গুরুতর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতার পাশাপাশি হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি এবং অটোনমিক নিউরোপ্যাথি শনাক্ত হওয়ার কথা জানান তিনি।
দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সাংবিধানিক এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি পদত্যাগ করেন। ২০২৩ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তী বিএনপি সরকারের আমলেও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
মতামত (0)