জাতীয়

সাইবার সুরক্ষা আইনে কণ্ঠ দমনের সুযোগ থাকবে না: তথ্যমন্ত্রী

সাইবার সুরক্ষা আইনে কণ্ঠ দমনের সুযোগ থাকবে না: তথ্যমন্ত্রী
সাইবার সুরক্ষা আইনে কণ্ঠ দমনের সুযোগ থাকবে না: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান জানিয়েছেন, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে গণমাধ্যম বা কারও কণ্ঠ দমনের সুযোগ থাকবে না। আইনটি এখনো খসড়া ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান জানিয়েছেন, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে এমন কোনো শব্দ বা বিধান রাখা হবে না, যার অপব্যবহার করে গণমাধ্যম বা অন্য কারও কণ্ঠ দমন করা যায়। তিনি বলেন, আইনটি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং এটি বর্তমানে খসড়া প্রণয়ন ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। আইনের কিছু শব্দের দ্বৈত অর্থ থাকায় সেগুলো নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

আজ বৃহস্পতিবার ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এর খসড়া পর্যালোচনার জন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি আরও জানান, প্রথমে একটি অধ্যাদেশ ছিল, যা পরবর্তীতে কাটছাঁট করে সময়োপযোগী করার চেষ্টা চলছে। মন্ত্রী বলেন, কিছু শব্দ আছে যেগুলোর দ্বৈত অর্থ রয়েছে এবং বিগত ১৭-২০ বছরে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ অন্যান্য আইন সংবাদমাধ্যমকে দমন বা অপব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

আন্দালিভ রহমান বলেন, আইন একদিনের জন্য হয় না, তাই তারা খুব সতর্ক থাকার চেষ্টা করছেন যেন কোনো শব্দ আগামীতে এই ধরনের অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে। তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার পর আবারও আলোচনা করার কথা জানান। তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কোনো আইনের শব্দের ব্যাখ্যার কারণে যেন মিডিয়া বা অন্য কারও ওপর এর কোনো অপব্যবহার বা খারাপ কিছু না হয়।

মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, আইনের মূল লক্ষ্য হলো সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং জননৈতিকতা বিনষ্ট করা বন্ধ করা। তিনি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গণতন্ত্রের নামে গালিগালাজ ও আপত্তিকর ভাষার ব্যাপক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন। আন্দালিভ রহমান বলেন, তারা চেষ্টা করছেন এই বিষয়গুলিকে আইনের আওতায় আনতে, একই সাথে মিডিয়ার স্বাধীনতার প্রতি সম্মান বজায় রাখতে, যাতে এই দুটি বিষয় কোনোভাবেই সাংঘর্ষিক না হয়।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আরও বলেন, তারা আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন যে, এই আইন কারও কণ্ঠ নিপীড়ন বা দমনের জন্য বানানো হচ্ছে না, যেমনটি অতীতে দেখা গেছে। তিনি পুনরায় জানান, আইনটি এখনো খসড়া এবং আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, আজ সকাল ১০টা থেকে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে একটি সভা ছিল।

তিনি বলেন, এই সভায় পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী জানান, সভায় সবার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে কনটেন্টগুলো নিয়ে তারা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। মেটা, টিকটক বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও আপত্তিকর বিষয়বস্তু নিয়ে তারা চিন্তিত।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই ধরনের কনটেন্ট দেখে অনেকের পারিবারিক অশান্তি হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আত্মহত্যার ঘটনাও শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই কনটেন্টগুলো নিয়ে তারা খুব সিরিয়াস। ফকির মাহবুব আনাম জানান, প্রিন্টিং মিডিয়া এবং সাইবার সিকিউরিটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তারা সাইবার সিকিউরিটির গুরুতর কনটেন্টগুলো নিয়ে কথা বলছেন, যেসব কনটেন্ট সমাজ ও ব্যক্তির ক্ষতি করছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...