বিনোদন

সালমা হায়েকের অভিযোগ: চিত্রনাট্যের বাইরে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করতে চাপ, শুটিংয়ে কেঁদেছিলেন অভিনেত্রী

সালমা হায়েকের অভিযোগ: চিত্রনাট্যের বাইরে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করতে চাপ, শুটিংয়ে কেঁদেছিলেন অভিনেত্রী
সালমা হায়েকের অভিযোগ: চিত্রনাট্যের বাইরে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করতে চাপ, শুটিংয়ে কেঁদেছিলেন অভিনেত্রী
হলিউড অভিনেত্রী সালমা হায়েক অভিযোগ করেছেন যে, 'ফ্রিদা' সিনেমার চিত্রনাট্যে না থাকা একটি নগ্ন যৌন দৃশ্যে অভিনয় করতে তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। শুটিংয়ের দিন তিনি মানসিক সংকটে ভুগছিলেন এবং কেঁদেছিলেন।

হলিউড অভিনেত্রী সালমা হায়েককে ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'ফ্রিদা' সিনেমার একটি নগ্ন যৌন দৃশ্যে অভিনয় করতে চাপ দেওয়া হয়েছিল, যা মূল চিত্রনাট্যে ছিল না বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এই দৃশ্যের শুটিংয়ের দিন তিনি মানসিক সংকটে ভুগছিলেন। তার শরীর কাঁপছিল, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং তিনি কেঁদেছিলেন বলে জানান।

অভিনেত্রী হায়েকের ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি শেষ করার জন্য তাকে মূল চিত্রনাট্যে না থাকা একটি নগ্ন যৌন দৃশ্যে অভিনয় করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছিল।

হলিউড প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টিন এই ছবিটির প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৭ সালে একটি নিবন্ধে হায়েক অভিযোগ করেন যে, সিনেমাটি নির্মাণের সময় ওয়াইনস্টিন তার ওপর যৌন হয়রানি, চাপ ও হুমকি প্রয়োগ করেছিলেন।

প্রযোজক ওয়াইনস্টিন অবশ্য তার অভিযোগের বেশ কিছু অংশ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, সিনেমার প্রয়োজনেই কিছু দৃশ্য তিনি করিয়েছিলেন।

২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া 'ফ্রিদা' সালমা হায়েকের বহু বছরের স্বপ্নের প্রকল্প ছিল। মেক্সিকান চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলো চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি এর প্রযোজনাও করেন।

এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। সিনেমাটি ছয়টি অস্কার মনোনয়ন পায় এবং হায়েক সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন অর্জন করেন, যা তাকে এই বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া প্রথম মেক্সিকান অভিনেত্রীতে পরিণত করে।

সালমা হায়েকের জন্য হলিউডে তারকা হয়ে ওঠার পথ সহজ ছিল না। মেক্সিকোর টেলিভিশনে জনপ্রিয় মুখ থেকে হলিউডে এসে তাকে ভাষা, পরিচয়, বয়স ও উচ্চতা নিয়ে হতাশার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

১৯৯১ সালে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি জমান ইংরেজি শেখা এবং হলিউডে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার উদ্দেশ্যে। তখন বিদেশি, বিশেষ করে লাতিনা অভিনেত্রীদের জন্য হলিউডে প্রধান চরিত্রে সুযোগ পাওয়া কঠিন ছিল।

অনেকেই তার হলিউডে বড় ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে হাসাহাসি করতেন বলে তিনি জানান। কিছু কাজের পরে তিনি ১৯৯৫ সালে 'ডেসপেরাডো' সিনেমায় অ্যান্টোনিও বান্দেরাসের বিপরীতে অভিনয় করে যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকের কাছে পরিচিতি লাভ করেন।

এরপর 'ফ্রম ডাস্ক টিল ডন', 'ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট' এবং 'ডগমা'র মতো সিনেমাগুলো তাকে আরও আলোচিত করে তোলে। এন্টারটেইনমেন্ট উইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তার চেহারাই তাকে হলিউডে সুযোগ পাওয়ার দরজা খুলে দিয়েছিল।

তিনি চেয়েছিলেন মানুষ যেন তার অভিনয় ও মেধাকেও গুরুত্ব দেয়, কেবল তার সৌন্দর্য ও শারীরিক আবেদন নিয়ে আলোচনা না করে। 'ফ্রিদা'র সাফল্য সত্ত্বেও এর নির্মাণ প্রক্রিয়া ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা।

আজ ২ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোতে জন্মগ্রহণকারী এই অভিনেত্রী ষাট বছরে পা দিয়েছেন। কৈশোরে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও তিনি তা পরিবারকে জানাতে সংকোচ বোধ করতেন।

একসময় তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং কূটনীতিক হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে ১৮ বছর বয়সে তিনি বাবাকে অভিনয় করার ইচ্ছার কথা জানান এবং পরে একাডেমিক পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারেননি।

টেলিভিশনে অভিনয় দিয়ে তার পথচলা শুরু হয়। মেক্সিকোর 'টেলিনোভেলা' সিরিজের তেরেসা চরিত্র তাকে দ্রুত পরিচিতি এনে দেয়। ১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া এই সিরিজটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় হন।

পরে মেক্সিকোর সিনেমায় কাজ করার পাশাপাশি থিয়েটারেও অভিনয় করেন। তবে সেখানে তার তীব্র মঞ্চভীতি ছিল। তিনি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, কখনো কখনো মঞ্চে উঠতেই তার এতটা ভয় লাগত যে তাকে পার্কিং এলাকা থেকে টেনে নিয়ে যেতে হতো।

৩০ বছর বয়সে তিনি নিজেকে ব্যর্থ, একাকী, কিছুটা পথহারা ও ভীত মনে করেছিলেন। ২০১৬ সালে মেক্সিকোর একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ৩০ বছর পূর্তির দিন তিনি কেঁদেছিলেন।

৫ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়েও তার ভয় ছিল। তিনি ভেবেছিলেন কাজ পাবেন না। তবে জীবনের ৪০-এর দশকে এসে তার সেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।

তিনি বুঝতে পারেন, জীবন নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী সব সময় এগোয় না এবং সেটি মেনে নেওয়ার মধ্যেও একধরনের শান্তি আছে। সালমা হায়েক শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে আটকে রাখেননি, তিনি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন।

তার প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে লাতিনা মানুষ ও নারীদের গল্প বলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...