বিনোদন

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর
সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় এই তারিখ পেছানো হয়েছে।

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। আজ (বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে গত রোববার (৩০ আগস্ট) এ মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, সামীরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি এবং খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ আসামির বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সামীরা হক, লতিফা হক লুসি ও আশরাফুল হক ডন ছাড়া অন্য অভিযুক্তরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। মামলায় আরও অনেককে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ২০ মে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এই আবেদন করা হয়। পরে ২৪ মে সালমান শাহর লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা নথিভুক্ত করেন।

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ২২ জুন সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করেন। ওই আদেশের অনুলিপি সম্প্রতি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে আদালত তা নথিভুক্ত করেন।

চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। সে সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। আদালত তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সেই প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। তবে সিআইডির এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

গত ২০ অক্টোবর (২০২৫ সাল) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করেন। এর মাধ্যমে তিনি মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ অক্টোবর (২০২৫ সাল) সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন।

মোহাম্মদ আলমগীর তার মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু একটা হয়েছে।

তারা দ্রুত বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন।

হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। প্রথমে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করতেন। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...