অর্থনীতিসাংবাদিক পরিবারের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন, ২০ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান
সাংবাদিক পরিবারের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন, ২০ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান
এবিজি ফাউন্ডেশন গত শুক্রবার দুই প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবার ও দুই অসুস্থ সাংবাদিককে মোট ২০ লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছে।
গত শুক্রবার বাংলাদেশ সচিবালয় বিটের চারজন সাংবাদিকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশন। এই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে দুই অসুস্থ সাংবাদিককে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রয়াত দুই সাংবাদিকের পরিবারের হাতেও সহায়তা চেক তুলে দেয় ফাউন্ডেশনটি।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বিয়াম মাল্টিপারপাস হলে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় এই সহায়তা দেওয়া হয়। অসুস্থ এবং প্রয়াত এই চার সাংবাদিকের প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
প্রয়াত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন হারুন অর রশিদ তালুকদার ও হুমায়ুন কবির খোকন। তাদের পরিবারের জন্য পাঁচ লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া অসুস্থ সাংবাদিক রাকিব উদ্দিন ও আমানুর রহমানের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এবিজি ফাউন্ডেশনের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মো. ইমরুল হাসান, ডিএমডি অ্যান্ড হেড অব এএন্ডএফ, ইডাব্লিউপিডি এবং বিসিডিএল ও পরিচালক, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি। আরও উপস্থিত ছিলেন এম. জেড. হোসেন আরজু, হেড অব ডিভিশন (আর অ্যান্ড ডি), এবিজি এবং মো. শাজেদুল করিম, জেনারেল ম্যানেজার, জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং, এবিজি ফাউন্ডেশন।
প্রয়াত সাংবাদিক হারুন অর রশিদ তালুকদারের পরিবারের পক্ষে তার ছেলে মো. তৌহিদ হারুন পাঁচ লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেন। তিনি জানান, "আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থ ছিলেন। আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন। তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আশা করবো তারা এইভাবে সাংবাদিকদের পাশে থাকবেন।"
প্রয়াত সাংবাদিক হুমায়ুন কবির খোকনের পরিবারের পক্ষে তার স্ত্রী শারমিন সুলতানা রিনা পাঁচ লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেন। শারমিন সুলতানা রিনা বলেন, "আমার স্বামী কোভিডে মারা গেছেন। সেই সময়েও বসুন্ধরা গ্রুপ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আজকে আবার যখন আমাকে এই চেকটি দিলেন, এটা আমাদের জন্য ভীষণ প্রয়োজন ছিল। আমাদের জীবনটা এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন। এই মুহূর্তে এটা আমাদের জন্য বিরাট পাওয়া।"
অসুস্থ সাংবাদিক রাকিব উদ্দিনের পক্ষে পাঁচ লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেন তার স্ত্রী নাসরিন জাহান। তিনি এবিজি ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, "এবিজি কে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার অসুস্থ স্বামীকে সহযোগিতা করার জন্য।" সাংবাদিক আমানুর রহমানও পাঁচ লাখ টাকার চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন। তার হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়।
নিজের বক্তব্যে আমানুর রহমান এবিজি ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আল্লাহ যেন তাদের এই প্রয়াস ও ডেডিকেশনকে কবুল করেন।" তিনি আরও বলেন, অসুস্থ সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সাংবাদিক পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ। ভবিষ্যতেও সাংবাদিকরা তাদের পাশে পাবেন—এমন প্রত্যাশাও তিনি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে এবিজির পক্ষ থেকে মো. ইমরুল হাসান তার বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকরা স্বচ্ছ সমাজের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন। তাদের মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখি। কিন্তু সেই স্বপ্নের কথা লিখতে গিয়ে যখন কলম চালানো মানুষটি আর্থিক অনটনের মধ্যে থাকেন, তখন অনেক সময় মনের ভাবটা সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরতে পারেন না। এ জন্য সাংবাদিকদের আর্থিক সচ্ছলতা প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এবিজি সবসময়ই সাংবাদিকদের পাশে আছে। একই সঙ্গে এবিজি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সারাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নানাভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এবিজি ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমের পেছনে এবিজির চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের অবদানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া সাংবাদিকদের ভালো ও দায়িত্বশীল কাজকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) ও এবিজি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে একটি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড আয়োজনের কথাও জানানো হয়। সাংবাদিকতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ইতিবাচক প্রতিবেদনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ পুরস্কার আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত এ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের স্পন্সর হিসেবে থাকবে এবিজি ফাউন্ডেশন। সমাজের পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর কল্যাণে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে ফাউন্ডেশনটি। প্রতি শুক্রবার এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুষ্টিকর খাবার প্রদান তাদের কার্যক্রমের অংশ।
মতামত (0)