জাতীয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন পরিকল্পনা: ট্যাব পাচ্ছে শিক্ষক, ল্যাব আধুনিকায়নে জোর

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন পরিকল্পনা: ট্যাব পাচ্ছে শিক্ষক, ল্যাব আধুনিকায়নে জোর
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন পরিকল্পনা: ট্যাব পাচ্ছে শিক্ষক, ল্যাব আধুনিকায়নে জোর
শিক্ষকদের জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কারিগরি শিক্ষার ল্যাব আধুনিকায়ন ও শিক্ষক সংকট সমাধানে জোর দেওয়া হবে।

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষকতা পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করতে সরকার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব স্তরের শিক্ষকের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করারও পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির মাধ্যমে ধাপে ধাপে সব পর্যায়ের শিক্ষকের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট পৌঁছানো হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। একইসাথে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি দেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে আশ্বাস দেন। মন্ত্রী দীর্ঘদিনের পুরোনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন, ল্যাব আধুনিকায়ন এবং শিক্ষক সংকট দ্রুত সমাধানের কথা জানান।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছর ধরে কারিগরি ও সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজনীয় বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগছে। তবে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষক পদ পূরণ এবং ল্যাব আধুনিকায়নের বিষয়গুলোকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী কারিগরি শিক্ষায় একটি সমন্বিত ‘ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই হবে না, ল্যাব, কারিকুলাম ও শিক্ষকের সমন্বয় প্রয়োজন। চীনের সফরের অভিজ্ঞতা থেকে ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার মেলবন্ধন ঘটিয়ে আধুনিক ল্যাব ও দক্ষ জনবল তৈরির মডেল অনুসরণ করা হবে। এই মডেলেই ল্যাব টেক্সটাইল ও টেকনিক্যাল ইকুইপমেন্ট আধুনিকায়ন করা হবে।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়েছেন। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে (টিভিইটি) লাইফলাইন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বৈশ্বিক শ্রমবাজার ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে টেকনিক্যাল শিক্ষার পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা (যেমন: চীনা, জাপানি, কোরিয়ান ও আরবি) যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ২০২৭ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাধ্যমিক (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা পেছানো হলেও এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর আপাতত কোনো কারণ নেই। যদি না কোনো প্রাকৃতিক সমস্যা দেখা দেয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মোটামুটি দেড় বছর আগেই সময়সূচি জানানো হয়েছে, সুতরাং তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে গত মে মাসে শিক্ষামন্ত্রী আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসির সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিলেন। ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী বছরের ৭ জানুয়ারির পরিবর্তে ১৪ মার্চ শুরু হবে। পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর এবং অভিভাবকদের মতামতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৬ জুন শুরু হয়ে ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া তিন দিনের চীন সফর করেন। সেখানে তাঁরা কারিগরি শিক্ষা নিয়ে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় জানানো হয়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...