জাতীয়বিপিসিএলের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন
বিপিসিএলের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন
সমন্বিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিক কেয়ার লিমিটেড (বিপিসিএল) তাদের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন করেছে। অনুষ্ঠানে শীর্ষস্থানীয় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমন্বিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিক কেয়ার লিমিটেড (বিপিসিএল) তাদের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন করেছে। গত রোববার ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী এবং অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পর্বতারোহী ও চিকিৎসক বাবর আলী উপস্থিত ছিলেন। বিপিসিএলের সিওও আরাফ ফেরদৌস, সিসিটিও আশফাকুল হক তানিম, চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ সালাম, অধ্যাপক ঝুনু শামসুন-নাহার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম মোরশেদ এবং ডিরেক্টর অব মেডিকেল সার্ভিসেস সামিনা হক অতিথিকে শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
বিপিসিএল তাদের পাঁচ বছরের পথচলায় চিকিৎসাকেন্দ্রের পরিসর বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মানসিক স্বাস্থ্যকে সামগ্রিক সুস্থতার একটি স্বাভাবিক অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি জনসচেতনতা, পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা যুক্ত করে একটি সমন্বিত সেবাধারা গড়ে তুলেছে।
অনুষ্ঠান শুরু হয় ‘ফাইভ ইয়ারস অব হিলিং মাইন্ডস’ শীর্ষক বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে। এই প্রামাণ্যচিত্রে বিপিসিএলের পাঁচ বছরের সফল পথচলা এবং সামাজিক প্রভাব তুলে ধরা হয়।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিপিসিএলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ সালাম বলেন, "পাঁচ বছরের এই অর্জন আমাদের রোগী ও তাঁদের পরিবার, চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী, থেরাপিস্ট ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।" তিনি আরও বলেন, "আগামী দিনে গবেষণা, পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ করতে চাই।"
বিপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম মোরশেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ।" তিনি উল্লেখ করেন, "গত পাঁচ বছরে আমরা চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, শিশু বিকাশসেবা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা করেছি।" তিনি আরও জানান, "সেবাগ্রহীতার মর্যাদা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে দেশের আরও বেশি মানুষের কাছে মানসম্মত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
বিশেষ অতিথি পর্বতারোহী ও চিকিৎসক বাবর আলী তাঁর বক্তব্যে পর্বত জয়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিকভাবে সুস্থ ও দৃঢ় থাকার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হেদায়েতুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এস আই মল্লিক, অধ্যাপক ঝুনু শামসুন নাহার ও অধ্যাপক মহসিন আলী শাহ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক মো. শামসুল আহসান মাকসুদও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিপিসিএল থেকে সেবা নিয়ে সুস্থতার পথে এগিয়ে চলা কয়েকটি পরিবার ‘সফলতার গল্প’ পর্বে তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরে। এরপর ‘কৌশলগত উন্মোচন’ পর্বে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ এবং নতুন সেবার রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষ হয় গত পাঁচ বছরে নিরবচ্ছিন্ন সেবা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কনসালট্যান্ট ও সহযোগী অংশীদারদের হাতে এই ‘সম্মাননা’ তুলে দেওয়া হয়।
মতামত (0)