জাতীয়

সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা জরুরি

সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা জরুরি
সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা জরুরি
সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য আইনি, মনঃসামাজিক, জরুরি সাড়া ও ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সহায়তা সেবাকে সমন্বিত করতে একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজন বলে একটি সেমিনারে বক্তারা মত দিয়েছেন।

সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা বিভিন্ন হুমকি ও সুরক্ষাজনিত ঝুঁকির মুখোমুখি হয়ে থাকেন। তাঁরা যাতে সময়মতো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পেতে পারেন, সে জন্য একটি সমন্বিত ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বক্তারা। রেফারেল ব্যবস্থাকে একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া বা নেটওয়ার্ক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য রেফারেল ব্যবস্থা’ শীর্ষক একটি সেমিনারে এই আলোচনা হয়। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে ‘বাংলাদেশে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য সহায়তা সেবার ম্যাপিং এবং একটি রেফারেল ব্যবস্থা প্রস্তাব’ শীর্ষক একটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি একটি প্রস্তাবিত রেফারেল ব্যবস্থা এবং কৌশলগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এই গবেষণা ‘স্বাধীনতা: ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ডিজিটাল ডেমোক্রেসি (ফ্রিডম)’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এটি বাস্তবায়ন করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য আইনি ও মনঃসামাজিক সহায়তা, জরুরি সাড়া এবং ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবা বিদ্যমান। তবে এই সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কাজ করে।

বিশেষায়িত সেবায় প্রবেশাধিকার সারা দেশে সমান নয়, যা জেলা, উপজেলা এবং প্রত্যন্ত এলাকায় বেশি প্রকট। অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত সাড়াও নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, “প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আমাদের পৃথিবীকে বদলে দিচ্ছে, তাতে তরুণদের এসব পরিবর্তনের সঙ্গে দায়িত্বশীলভাবে মানিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করতে সক্ষম করে তুলতে হবে।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন এবং পলিটিক্যাল, ইকোনমিক, ট্রেড, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সেকশনের প্রধান বাইবা জারিনা বলেন, হুমকির মুখে পড়লে কোনো সাংবাদিক বা মানবাধিকারকর্মীর যেন সহায়তা পাওয়ার জায়গা নিয়ে দ্বিধায় থাকতে না হয়। তাঁরা যেন স্পষ্টভাবে জানতে পারেন কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় সহায়তা পাওয়া যাবে এবং কী ধরনের সহায়তা পাওয়া সম্ভব।

আইন ও নীতিমালা থাকার পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি বলে উল্লেখ করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। তিনি বলেন, অপতথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ও ডিজিটাল হয়রানি বাড়ছে। তাই নাগরিকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি তরুণদের পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ বাড়ালেও অপতথ্য, ঘৃণা, অনলাইন হয়রানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর অধিকার ও সুরক্ষা এবং গণমাধ্যম সাক্ষরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, শুধু প্ল্যাটফর্ম, নীতিমালা বা কর্মপরিকল্পনা থাকলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। অভিযোগের ক্ষেত্রে সময়োপযোগী আইনি ব্যবস্থা ও দ্রুত সাড়াও নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...