শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় পাঠ্যবইয়ের অঙ্গীকার শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় পাঠ্যবইয়ের অঙ্গীকার শিক্ষামন্ত্রীর
শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় পাঠ্যবইয়ের অঙ্গীকার শিক্ষামন্ত্রীর
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত, মানসম্মত ও আকর্ষণীয় পাঠ্যপুস্তক সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানান, অতীতের ভুলভ্রান্তি দূর করে নতুন বই তৈরি করা হচ্ছে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য ত্রুটিমুক্ত, মানসম্মত, প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় পাঠ্যপুস্তক সরবরাহের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি অতীতের সকল ভুলভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে এসে এই লক্ষ্য পূরণের কথা জানান।

মন্ত্রী রোববার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন। তিনি ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ‘চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)’র চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন উপস্থিত ছিলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা যোগ দেন।

শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বিগত বছরগুলোতে পাঠ্যপুস্তকের পাণ্ডুলিপিতে অসংখ্য বানান ভুল ও যাচ্ছেতাই বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব ত্রুটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। তিনি জানান, সরকার এবার শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গ্রুপভিত্তিক নিবিড় কাজ করছে।

ড. এহছানুল হক মিলন উল্লেখ করেন, অতীতের সেই আবর্জনা পরিষ্কার করে শতভাগ নির্ভুল বই তৈরি করা হচ্ছে। মানসম্মত প্রিন্টিং ও কাগজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, বইয়ের প্রচ্ছদ ও ভেতরের ছবিগুলো এমন প্রাণবন্ত হতে হবে যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করে। ছবি যেন নিজেই কথা বলে, এমনভাবে সেগুলো তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, নতুন এই চারটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর গঠিত বিশেষজ্ঞ দলকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ক্রীড়া বিষয়ক অধ্যায়ের কনক্লুসিভ স্টেটমেন্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

একইভাবে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সাব-কমিটিও আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাদের মতামত জমা দেবে। এই মতামতগুলো পাওয়ার পরই পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের কাজ শেষ করেই সরকার বসে থাকবে না। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত কারিকুলাম তৈরির জন্য আগামী ১ আগস্ট থেকেই নতুন বইয়ের কাজে হাত দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকবে এবং কোনো তাড়াহুড়ো হবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতের উন্নয়নকে নিজে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করেন। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি চমৎকার ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...