সারাদেশ

সনাতনীদের জন্য সবসময় খোলা থাকবে আমার দরজা: অর্থমন্ত্রী

সনাতনীদের জন্য সবসময় খোলা থাকবে আমার দরজা: অর্থমন্ত্রী
সনাতনীদের জন্য সবসময় খোলা থাকবে আমার দরজা: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য তার দরজা সবসময় খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার সব বাংলাদেশির জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য তার দরজা সবসময় খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কারও মাধ্যম ছাড়াই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সরাসরি তার কাছে আসতে পারবেন। মন্ত্রী তাদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দেন।

আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেএম সেন হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ধর্মমহাসম্মেলন ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সামাজিকভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সবকিছু পুরোপুরি পরিবর্তন না হলেও এ পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেন, সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ধর্মের জন্য নয়, বরং সব বাংলাদেশির জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য ক্ষমতায় আসেনি। বাংলাদেশের সব গোষ্ঠীর ভোটে বিপুল জয় নিয়ে এ সরকার ক্ষমতায় এসেছে।

মন্ত্রী আরও জানান, সনাতনী, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠী সবাই ভোট দিয়েছেন। তিনি এই সরকারকে একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে অভিহিত করেন।

বিগত সময়ে সমাজে বিভেদ তৈরি করা হয়েছিল উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সমাজে যে অবক্ষয় হয়েছে, বিগত দিনে একটি সরকার সমাজে যে বিভেদের সৃষ্টি করেছে, তা আগামীকাল সকালে সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা তিনি বলছেন না। তবে তিনি মনে করেন, যে পথে সরকার চলছে, সেই পথ ঠিক আছে এবং পথ ঠিক থাকলে সেই পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

সরকার সব গোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় রেখে নীতিমালা প্রণয়ন করছে বলে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মসজিদে যে অনুদান দেওয়া হবে, মন্দিরেও একই অনুদান দেওয়া হবে। মসজিদের ইমামকে যা দেওয়া হয়েছে, মন্দিরের পুরোহিতকেও তা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আগে এমনটি হয়নি।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে আমির খসরু বলেন, আপনারা আমাদের কাছে আসবেন। কারও মাধ্যম লাগবে না, সরাসরি আসবেন। তিনি পুনরায় বলেন, সনাতনীদের জন্য তার দরজা সবসময় খোলা।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আপনারা নিজেদের দুর্বল মনে করবেন না। নিজেদের অন্যদের থেকে পৃথক মনে করবেন না। তিনি এমন একটি দেশ গড়ার কথা বলেন, যেখানে সব মানুষ নিজ নিজ উৎসব পালন করবে, নিজ নিজ অধিকার ভোগ করবে এবং সমঅধিকার পাবে।

তিনি নিশ্চিত করেন, কারও জন্য বিশেষ কিছু করা হবে না, আবার কোনো গোষ্ঠীকে ছোট করেও দেখা হবে না। অর্থমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে কোনো বঞ্চনা থাকবে না।

দেশের বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বড় বাজেট প্রণয়ন করার পর অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় বাজেট কেন এবং এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না। তবে সরকারের লক্ষ্য হলো সবার জন্য প্রণীত এই বাজেট সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি চন্দন তালুকদার। শ্রীশ্রী কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ কালীপদ ভট্টাচার্য মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আর কে দাশ রুপু স্বাগত বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ। সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার হরিশ কুমার এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদ অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী, অধ্যাপক রুপন ধর ও উত্তম কুমার চক্রবর্তী অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরুর আগে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে টেলিভিশন ও বেতারের শিল্পীরা তাদের গান ও নৃত্যের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। জন্মাষ্টমী মহোৎসব উপলক্ষে শনি ও রোববার দুই দিনব্যাপী ষোড়শপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...