সংবিধান সংশোধন কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন ডিসেম্বরে, জানালো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সম্পাদক২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 দিন আগে
সংবিধান সংশোধন কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন ডিসেম্বরে, জানালো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আশা প্রকাশ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ রবিবার এ তথ্য জানান।
সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের আশা প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ করে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ রবিবার এই তথ্য জানান।
আজ ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’র দ্বিতীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা আড়াইটায় কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত গতিতে এগোতে চায় কমিটি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সংগঠনের প্রতিনিধি, শহীদ পরিবারের সদস্য, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ধারণ করেই এগোবে কমিটি।
জুলাই সনদের বাইরে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিপূরক প্রস্তাব এলে সেগুলোও পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে মন্ত্রী জানান। কাজের গতি বজায় রাখতে সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে কমিটির একটি করে বৈঠক আয়োজন করা হবে।
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি অংশ নেয় এবং কয়েকটি দল থেকে একাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। একটি দল লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছে এবং অন্য একটি দলের প্রতিনিধি অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে উপস্থিত হতে পারেননি।
সব মিলিয়ে ১৭টি দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। অনুপস্থিত জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি স্ত্রীর অসুস্থতা এবং সাধারণ সম্পাদক নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর কারণে আসতে পারেননি। তাঁরা কেউ অংশগ্রহণ প্রত্যাখ্যান করেননি বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন।
সনদের কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) থাকলেও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন। শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে কাঠামোগত ও আইনি পরিবর্তনের বিষয়ে দলগুলো একমত হয়েছে।
সংবিধানে সংশোধনের পাশাপাশি অনেক বিষয় আইন, অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য। এর একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে বলে তিনি জানান। সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আনা হবে।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু প্রস্তাবও এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে। উদাহরণ হিসেবে মন্ত্রী জানান, বর্ষাকালে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হওয়ায় অর্থবছর ১ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ মার্চ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উচ্চকক্ষ গঠনসহ যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো দল তাদের ভিন্নমত নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে। বিএনপি তাদের ৩১ দফায় ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না—এমন রাজনৈতিক প্রচারণাকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সংখ্যাধিক্যের অজুহাতে চুক্তি থেকে পিছিয়ে আসছে না, বরং যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে ঠিক সেভাবেই তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বিরোধী দল অংশ না নেওয়ায় প্রক্রিয়াটি একপাক্ষিক হয়ে যাচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যাঁরা সনদে স্বাক্ষর করেননি, তাঁরা আলোচনা করতে চাইলে সেই সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত যেকোনো রাজনৈতিক দল লিখিত প্রস্তাব দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
পূর্বে গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতেই বর্তমান খসড়া তৈরি হয়েছে। এখন নতুন কোনো ঢালাও প্রস্তাব জটিলতা বাড়াবে, তবে নির্দিষ্ট কোনো লিখিত প্রস্তাব থাকলে তা পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।
সংবিধান পরিবর্তনের আইনি ও বৈধতার প্রশ্নে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধন একটি চলমান ও স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। বিশ্বের অনেক দেশেই সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন হয়েছে। টু-থার্ড মেজরিটি ও জনগণের চাহিদা থাকলে যেকোনো সংবিধান সংশোধন সম্ভব।
মতামত (0)