রাজনীতিসংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল, বিএনপিকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল, বিএনপিকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সঙ্কট থাকবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না বা ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ অবস্থানে যাবে না—এমনটা হতে পারে না। তার এই বক্তব্যে সংসদে ব্যাপক হট্টগোল হয়।
জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সঙ্কট থাকবে না, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সঙ্কট দেখা দেওয়া। একইসাথে তিনি দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির ক্ষেত্রেও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন।
গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব এবং বিলের সাধারণ নীতির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, প্রত্যেকটা সরকারের একটি নিজস্ব চরিত্র থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কট হবে না—এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সঙ্কট হবে না—সেটাও হতে পারে না।'
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা আরও বলেন, সারের সঙ্কটে দরিদ্র কৃষকরা সার কারখানায় গিয়ে তা লুট করবেন না—এমনটিও হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না—এটিও সম্ভব নয়। একইভাবে বাংলাদেশ ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ অবস্থানে যাবে না, সেটিও হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে জানান, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ঋণখেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। তিনি এই তথ্য উল্লেখ করে বিএনপি সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের একপর্যায়ে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হৈচৈ শুরু হয়। এ সময় তিনি সংসদের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, এটি মনে হচ্ছে তারা আবার আওয়ামী লীগ আমলে ফিরে গেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তখন বিরোধীদের বক্তব্যের সময় আওয়ামী লীগের সদস্যরা হট্টগোল করতেন। এখন একই ধরনের আচরণ হচ্ছে, বরং আরও খারাপ আচরণ করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ব্যাংক রেজুলেশন বিলে যুক্ত হওয়া নতুন ধারা ১৮-ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ওই ধারা রাখার কারণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং সংসদের বেশির ভাগ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। তার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটাতে আদালতে রিট করা এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঘটনা দেশের পুরোনো সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সময় বারবার হট্টগোল চলতে থাকলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি ‘অর্ডার’ বলে সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং রুমিন ফারহানাকে তার বক্তব্য চালিয়ে যেতে বলেন। হট্টগোল অব্যাহত থাকলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
স্পিকার বলেন, একজন সংসদ সদস্য বক্তব্য দিচ্ছেন এবং তার বক্তব্য উপস্থাপনের স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কারো বক্তব্যে দ্বিমত থাকলে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সময় তা খণ্ডন করা যেতে পারে। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।
মতামত (0)