সারাদেশ

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি
সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং বিরোধী দলের প্রশ্নের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যার ফলে স্পিকার সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল শুরু হয়। সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এরপরই প্রশ্নোত্তর পর্বে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সরকারের গত ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, তিনি সফল না ব্যর্থ। এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই সংসদে হট্টগোল শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রশ্নকে ‘পল্টনের বক্তব্য’ হিসেবে অভিহিত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সফল না ব্যর্থ, এমন প্রশ্ন শাহবাগ ও পল্টনে করা যায়, কিন্তু সংসদে এ ধরনের প্রশ্ন চলে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ছয় মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এমন সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে তিনি বিরোধী সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

পরে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম এক প্রশ্নে অভিযোগ করেন, বিরোধী দলীয় এমপিদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে আইনের শাসনের কবর রচনা করা হচ্ছে। তার এই মন্তব্যের পরপরই সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও টেবিল চাপড়ানো শুরু হয়।

তুমুল হট্টগোলের একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইয়েস, আই উইথড্র, আই উইথড্র’। স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, তিনি কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলেননি, বরং বোঝাতে চেয়েছেন যে জাতীয় সংসদে বাইরের বক্তৃতা চলে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে হবে, এটাই তার উদ্দেশ্য ছিল। তিনি স্পিকারের কাছে সুরক্ষা চেয়ে উল্লেখ করেন, মাননীয় সদস্য সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন, তিনিও দাঁড়িয়ে থাকবেন।

সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও একে অপরকে কথা বলতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত’। স্পিকার কার্যপ্রণালী বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর জোর দেন।

পরে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম থেকেই বিরোধীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে অসংসদীয় মনোভাব প্রদর্শন করে আসছেন এবং সংসদকে শিক্ষকের ভূমিকায় বসিয়ে বাকিদের ছাত্রের মতো শাসন করার দুঃসাহস দেখাচ্ছেন।

শফিকুর রহমান পরামর্শ দেন, শিক্ষকতা করতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় খোলা উচিত যেখানে পছন্দসই শিক্ষার্থীরা ভর্তি হবে। তিনি সরকারের এমন আচরণকে সংসদীয় ফ্যাসিবাদের রূপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে তার অসংসদীয় মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে ও বক্তব্য কার্যপ্রণালী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, তা না হলে বিরোধী দলের সদস্যরা অপমান সহ্য করে সংসদে অবস্থান করবেন না।

জাতীয় সংসদের নিরপেক্ষতা রক্ষা এবং কার্যপ্রণালী বিধি বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আবারও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে সচল এবং জনগণের এই প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর রাখতে হলে রুলস অব প্রসিডিউর কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। তিনি সরকারি দলের ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরার পূর্ণ স্বাধীনতা বিরোধী দলের রয়েছে বলে জানান।

স্পিকার আরও বলেন, একজন মন্ত্রীকে বক্তব্য শেষ করতে না দিয়ে সমস্বরে চেঁচামেচি করে বিচার বাণী স্তব্ধ করে দেওয়া কোনো সুস্থ সংসদীয় রীতি হতে পারে না। নিজের ৪০ বছরের দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পিকার অতীতের তিক্ত ইতিহাস এবং অতীতে স্পিকারকে হত্যার মতো নির্মম ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ভালো সংসদ উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...