খেলাধুলা

সৃজনশীলতা বিকাশে খেলাধুলা ও সহশিক্ষার গুরুত্ব: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নতুন বার্তা

সৃজনশীলতা বিকাশে খেলাধুলা ও সহশিক্ষার গুরুত্ব: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নতুন বার্তা
সৃজনশীলতা বিকাশে খেলাধুলা ও সহশিক্ষার গুরুত্ব: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নতুন বার্তা
খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ গণশিক্ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ “সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকেও সমান গুরু

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সম্প্রতি শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং সার্বিক বিকাশের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি এসেছে ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত 'বাংলাদেশে প্রাথমিক পাঠ্যক্রম উন্নয়ন: সংস্কার যাত্রার সম্মিলিত পর্যালোচনা' শীর্ষক এক সেমিনারে, যার আয়োজক ছিল আন্তর্জাতিক শিশু উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তাঁর বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তিনি মনে করেন, সমাজের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের পাঠ্যক্রমকেও সময়োপযোগী, শিশুবান্ধব এবং শিশুদের পরিবর্তিত শেখার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যার ওপর নির্ভর না করে, শিশুদের যুক্তিভিত্তিক চিন্তার দক্ষতা, জীবন দক্ষতা এবং ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন যেখানে পাঠদানের পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমও সমান গুরুত্ব পাবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন। তাঁর এই আহ্বান শিশুদের সামগ্রিক মেধা ও মননের বিকাশে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত এই সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের মৌলিক শিক্ষা, চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং ভবিষ্যতের জন্য সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়ক একটি সময়োপযোগী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পাঠ্যক্রম প্রণয়নের জন্য সরকারকে তাগিদ দিয়েছেন। তারা শিশুদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ অর্জনে সহায়ক এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে সক্ষম করে তুলতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রমাণভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এই ধরনের একটি সমন্বিত পাঠ্যক্রম শিশুদের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠ্যক্রম সংস্কারের একটি চলমান প্রক্রিয়া রয়েছে, যেখানে সরকার ২০২৮ সাল থেকে নতুন একটি পাঠ্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমানে দেশে ২০১২ সালে প্রণীত পাঠ্যক্রমের একটি পরিমার্জিত সংস্করণ চালু আছে, যা শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে অনেকটাই প্রভাবিত করছে। এর আগে, ২০২২ সালে পাইলটিংয়ের পর ২০২৩ সাল থেকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার একটি নতুন পাঠ্যক্রম বিস্তরণ শুরু করেছিল, যা নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক ছিল।

তবে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ওই সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মাধ্যমিক পর্যায়ে ওই শিক্ষাক্রম বাতিল করে প্রায় একযুগ আগের পাঠ্যক্রমে ফিরে যায়। এর ধারাবাহিকতায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এমন একটি সময়ে শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে সময়োপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়নের জন্য প্রতিমন্ত্রীর এই তাগিদ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এই সেমিনারে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় দেশের শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা তাদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন। ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের (ক্যাম্পে) নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের (ব্র্যাক আইইডি) প্রোগ্রাম প্রধান ও গবেষণা প্রধান সৈয়দা সাযিয়া জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (ন্যাপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ, ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) টিম লিডার (হিউম্যান ক্যাপিটাল) ও শিক্ষা উপদেষ্টা মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস এই আলোচনায় অংশ নেন। তাদের সম্মিলিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা পাঠ্যক্রম উন্নয়নের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা শিশুদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ তৈরি করবে বলে আশা করা যায়। যেখানে কেবল পরীক্ষার ফলাফল নয়, বরং প্রতিটি শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ থাকবে এবং তারা সমাজের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে গড়ে উঠবে। একটি সুষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমেই একটি জাতিগতভাবে সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...