জাতীয়

সরকারি পে-স্কেলের খসড়া আজ মন্ত্রিসভায়

সরকারি পে-স্কেলের খসড়া আজ মন্ত্রিসভায়
সরকারি পে-স্কেলের খসড়া আজ মন্ত্রিসভায়
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলের খসড়া আজ মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উঠছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদন পেলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলের খসড়া আজ মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উঠছে। সচিবালয়ে বিকেলে পূর্বনির্ধারিত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে আজ সকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থের সংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদন পেলে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত সচিব কমিটি দুই অর্থবছরে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। সচিব কমিটির প্রস্তাব ছিল, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং পরবর্তী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর করা হবে।

তবে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় এই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে, তবে এর অর্থ পরিশোধ ধাপে ধাপে করা হবে। নতুন পে-স্কেল কীভাবে ও কোন সময়সূচিতে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা নেবে। প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত করেছে। নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।

কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেয়। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে সচিব কমিটির চূড়ান্ত খসড়ায় বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি ১০০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেনি।

অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে গঠিত এই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশনের হিসাবে, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে বর্তমানে বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এই বিপুল অর্থের সংস্থান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি তখন বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...