গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে নির্বাচন কমিশনারদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পুরো কমিশনকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন্দ্র করে নয় দফা সুনির্দিষ্ট লিখিত দাবি পেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত প্রতিনিধিদল।
বৈঠক শেষে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য করার লক্ষ্যে তারা এসব দাবি উত্থাপন করেছেন। তিনি বেশ কয়েকটি বিষয়ে কমিশনের অসহায়ত্ব পরিলক্ষিত হয়েছে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নির্বাচন কমিশন কোনো বিশেষ দলীয় সরকারের চাপের মুখে কাজ করছে কি না, এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জামায়াতের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে বাতিল করা। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, দেশে এ ধরনের ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষক রয়েছেন। সুদীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের শিক্ষকরা প্রতিটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ছাড়াও রাজনীতি ও ভোটাধিকার প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। এমতাবস্থায় কেবল স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকদের সমানাধিকারের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এটি একটি সুস্পষ্ট বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা বলেও উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচন কমিশনকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে; অন্যথায় তা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে জামায়াত নেতারা জানান। প্রতিনিধিদলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল, যেসব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি ও যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকা- সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেই দলের পদ-পদবিধারী নেতারা যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন।
নিষিদ্ধ কোনো দলের পদধারী নেতার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটাও এক ধরনের রাজনৈতিক কর্মকা-ের মধ্যে পড়ে এবং এটি জনগণের ধারণারও পরিপন্থি বলে জামায়াত উল্লেখ করে। তাই স্বচ্ছতার স্বার্থে যেকোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানায় তারা। তবে সাধারণ সমর্থকদের বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করা হয়নি।



মতামত (0)