২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে "সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান এই প্রাণীর সংরক্ষণ ও এর আবাসস্থল সুরক্ষায় জোর দেওয়া হয়। সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগ সাতক্ষীরা রেঞ্জ এবং সিএমসি (সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি) যৌথভাবে এই আয়োজন করে, যা বুড়িগোয়ালিনী সিপিজি কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। এই আয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন, বন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন এবং বাঘ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সিএমসি সভাপতি মাহামুদা বেগমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য আবু ফরিদের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সভায় বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) এরফান উদ্দিন, ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়ুব আলী, কলাগাছিয়া বনবিভাগ কেন্দ্রের ইনচার্জ সুলজ কুমার দ্বীপ, ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম রেজাউল করিমসহ সিপিজি ও সিএমসি’র সদস্য এবং উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম বক্তব্য রাখেন। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, রয়েল বেঙ্গল টাইগার কেবল বাংলাদেশের জাতীয় গর্বই নয়, এটি সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার একটি অপরিহার্য উপাদান।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় সরকারের চলমান উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা উল্লেখ করেন, বাঘের আবাসস্থল ক্রমেই জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, মানব-বন্যপ্রাণীর সংঘাত এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে। এই গুরুতর সংকট মোকাবিলায় বন বিভাগ, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনসাধারনকে অবশ্যই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে তারা দৃঢ়ভাবে জানান।
সুন্দরবনের টিকে থাকা যে শুধু বাঘের জন্যই জরুরি নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং লাখো মানুষের জীবিকা সুরক্ষার জন্যও অপরিহার্য, সে বিষয়টিও বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে। তারা বলেন, সুন্দরবন তার নিজস্ব ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রাচীর হিসেবে কাজ করে, যা ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ থেকে দেশকে রক্ষা করে। এই প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হলে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে উপকূলীয় জনজীবনের ওপর।
এই ধরনের স্থানীয় উদ্যোগগুলো সরকারের বৃহত্তর পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। যেমন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং মৌলিক গবেষণায় বিজ্ঞানীদের আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন, যা পরিবেশবান্ধব কৃষি ও মৎস্য চাষের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে।



মতামত (0)