রাজনীতিত্রাণমন্ত্রী: অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি, মানুষের পাশে ছিলেন
ত্রাণমন্ত্রী: অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি, মানুষের পাশে ছিলেন
ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি, বরং লড়াই-সংগ্রামে মানুষের পাশে ছিলেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, অন্য কোনো দলের নেতাদের মতো বিএনপির নেতারা কখনো পালিয়ে যাননি। তারা সবসময় লড়াই-সংগ্রামে মানুষের পাশে অবস্থান করেছেন। বিএনপি কেবল প্রতিশ্রুতিই দেয় না, বরং তা বাস্তবায়নের চেষ্টাও করে এবং বাস্তবায়ন করেছে।
মন্ত্রী বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর নূতনপাড়া আলহাজ সিদ্দিক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এসব কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। যারা দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছিল, তাদের ব্যর্থতার ফলস্বরূপ বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে বিএনপি গঠিত হয়েছিল। বিএনপি সবসময় মানুষের ভালোবাসা নিয়ে রাজনীতি করে থাকে।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি গঠিত হওয়ার পর থেকে দেশে যতবার নির্বাচন হয়েছে, সব নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ছিল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া হিমালয়ের পর্বতের মতো অবিচল ছিলেন। তার ওপর অনেক নির্যাতন, জুলুম ও অত্যাচার হয়েছে।
এরপরও বিএনপির পতাকা টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত উত্তোলিত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। গোটা দেশের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে এবং সর্বশেষ নির্বাচনে মানুষ বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে।
ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, অন্য দলগুলো নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা ভুলে যায়। তবে বিএনপি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে। তারেক রহমানের ৩১ দফার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা ও বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচিগুলো বর্তমানে চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। চৌহালীর প্রসঙ্গে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেখানে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে চৌহালীতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এই কাজ বাস্তবায়নে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় তিনি সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীমকে সহযোগিতা করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তব্য শেষে আসাদুল হাবিব দুলু ও আমিরুল ইসলাম খান আলীম দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সোহাগপুর নূতনপাড়া আলহাজ সিদ্দিক উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে বেলকুচি সরকারি কলেজ পর্যন্ত একটি র্যালিতে অংশ নেন। এর আগে মন্ত্রী বেলকুচির তামাই এলাকায় তাঁতশিল্প পরিদর্শন করেন। পরে তিনি এনায়েতপুরে গবাদিপশু আশ্রয়কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং স্পার-২ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
মতামত (0)