জাতীয়

ট্রেন থেকে স্টারলিংকের ৪৫ রাউটার ও অ্যানটেনা চুরি

ট্রেন থেকে স্টারলিংকের ৪৫ রাউটার ও অ্যানটেনা চুরি
ট্রেন থেকে স্টারলিংকের ৪৫ রাউটার ও অ্যানটেনা চুরি
চলন্ত ট্রেনে ইন্টারনেট সেবা দিতে স্থাপিত ৬০টি স্টারলিংক রাউটারের মধ্যে ৪৫টি চুরি হয়েছে। একটি অ্যানটেনাও খুলে নেওয়া হয়েছে। এতে পরীক্ষামূলক সেবার মূল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া স্যাটেলাইটভিত্তিক স্টারলিংক সেবার ৬০টি রাউটারের মধ্যে ৪৫টিই চুরি হয়ে গেছে। চারটি আন্তনগর ট্রেনে এই রাউটারগুলো বসানো হয়েছিল। শুধু রাউটার নয়, ঢাকা-সিলেট রুটের উপবন এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে একটি স্টারলিংক অ্যানটেনাও খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গত ২৬ সালের ১৩ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো চারটি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে এই উচ্চ গতির ইন্টারনেট সেবা চালু করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। আন্তনগর পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস—এই চারটি ট্রেনে সেবাটি চালু হয়।

প্রাথমিকভাবে যাত্রীদের বিনা মূল্যে এই ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া হচ্ছিল। ট্রেনযাত্রীদের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট–সুবিধা কতটা কার্যকর এবং দীর্ঘ যাত্রায় কতটা টেকসই, তা পরীক্ষা করাই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। এ সেবায় বিএসসিএল কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

বিএসসিএল সূত্র জানায়, গত রোজার ঈদের পর থেকেই চারটি ট্রেনে রাউটার চুরি হতে শুরু করে। শুরুতে প্রতিটি বগিতে দুটি করে রাউটার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চুরি বাড়তে থাকায় কোনো কোনো বগিতে একটি করে রাউটার দিয়ে সেবা পরিচালনা করতে হয়।

সূত্রমতে, চুরি হওয়া যন্ত্রাংশ একসঙ্গে সব প্রতিস্থাপন করা হয়নি। প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো দুটি, কখনো চারটি করে নতুন রাউটার বসানো হয়েছে। তবে নতুন করে বসানো যন্ত্রগুলোও সব সময় নিরাপদ থাকেনি।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে শুধু রাউটার নয়, এর সঙ্গে সংযুক্ত তার ও কেব্‌ল চ্যানেলিংও খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চারটি আন্তনগর ট্রেনে স্থাপন করা ৬০টি রাউটারের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৫টি টিকে আছে। এই ঘটনায় পরীক্ষামূলক সেবার মূল অবকাঠামো অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিএসসিএলের কর্মকর্তারা ট্রেনে থাকা স্টারলিংক যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নিয়মিত তদারক করেন। সেই তদারকির সময় সম্প্রতি বড় ধরনের চুরির ঘটনা তাদের নজরে আসে।

সম্প্রতি উপবন এক্সপ্রেসের একটি স্টারলিংক অ্যানটেনা থেকে অকার্যকর সিগন্যাল পাওয়ার পর বিএসসিএলের একটি দল সরেজমিনে বিষয়টি খতিয়ে দেখে। ট্রেনের ছাদে গিয়ে কর্মকর্তারা দেখতে পান, অ্যানটেনাটি নেই, আছে শুধু অ্যানটেনা বসানোর হোল্ডার।

বিএসসিএলের কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রতিটি রাউটারের দাম আট থেকে ১০ হাজার টাকা। একটি অ্যানটেনার দাম দুই লাখ টাকার বেশি। বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমাদুর রহমান বলেন, যন্ত্রপাতি চুরি ঠেকানো না গেলে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া চ্যালেঞ্জ হবে।

রাউটারগুলো কারা নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (টেলিকম) সৈয়দ মো. শাহিদুজ্জামান বলেন, চলন্ত ট্রেনে চুরি নিয়মিতই ঘটে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের চুরি ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই রেল কর্মকর্তার ভাষ্য, অনেক সময় মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা ধাতব কোনো যন্ত্রাংশ দেখে এর প্রকৃত মূল্য না জেনেই তা চুরি করে অল্প দামে বিক্রি করে দেন।

রেলে স্টারলিংক সেবার এই উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, গত তিন মাসে বিভিন্ন রুটের ট্রেনের চুরি হওয়া রাউটার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তবে চুরি থামানো যায়নি।

তিনি আরও বলেন, এবার চুরি ঠেকাতে রাউটার ও অ্যানটেনা স্থাপনের পদ্ধতিতেই পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, রেলে নতুন করে যে ৫০টি বগি যুক্ত হবে, সেখানে রাউটারগুলো বগির মূল অবকাঠামোর ভেতরের অংশে স্থাপন করা হবে। অ্যানটেনা সাধারণ বগির ছাদের বদলে ইঞ্জিন বগির ছাদে স্থাপন করা হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...