জাতীয়

১০৪ বছর বয়সে কারাগারে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি

১০৪ বছর বয়সে কারাগারে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি
১০৪ বছর বয়সে কারাগারে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি
দুই যুগ আগের ডাকাতি ও জোড়া হত্যা মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার তার জামিন আবেদন নাকচ করা হয়।

কিশোরগঞ্জের দুই যুগ আগে সংঘটিত ডাকাতি ও জোড়া হত্যার মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বয়স ও অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরে জামিন চাওয়া হলেও আজ মঙ্গলবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে নুর মোহাম্মদ জামিনের আবেদন করেন। বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নুর মোহাম্মদের পক্ষে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান এই তথ্য জানান।

তিনি আরও বলেন, বয়স ও অসুস্থতার কারণে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার অনুমতিও চেয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত সেই আবেদনও গ্রহণ করেননি।

আদালতে নুর মোহাম্মদের আইনজীবী জানান, তার মক্কেলের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করেন। বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত এই ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানানো হয়।

তবে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকার ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুজনকে হত্যা করা হয়।

ডাকাতেরা দোকানের সিন্দুক ভেঙে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর দোকানের মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন কিশোরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

পরবর্তীতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায় দেন।

রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া নামে এক আসামির মৃত্যু হয়।

পরবর্তী সময়ে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্য আসামিদের সাজাও বিভিন্ন মেয়াদে পরিবর্তন করা হয়।

সেই পর্যায়ে নুর মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, নুর মোহাম্মদ এই মামলায় হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

এমনকি মামলার রায় ঘোষণার সময়ও তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। দীর্ঘ ২৩ বছর পর আজ মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদ।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...