বিনোদন২২ আগস্ট: বিটলসের স্মরণীয় তিন ঘটনা
২২ আগস্ট: বিটলসের স্মরণীয় তিন ঘটনা
১৯৬২ সালে প্রথম টেলিভিশন পারফরম্যান্স, ১৯৬৬ সালে নিউইয়র্কে আলোচিত সংবাদ সম্মেলন এবং ১৯৬৮ সালে রিঙ্গো স্টারের সাময়িক বিদায় — ২২ আগস্ট বিটলসের ইতিহাসে এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার জন্ম দিয়েছিল।
বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে ‘দ্য বিটলস’ নামটি বিশেষভাবে পরিচিত। জন লেনন, পল ম্যাককার্টনি, জর্জ হ্যারিসন ও রিঙ্গো স্টার — এই চারজনকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল সংগীতের এক অনন্য অধ্যায়। ২২ আগস্ট তারিখটি ব্যান্ডটির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা ভিন্ন ভিন্ন বছরে এই দিনে তাদের কর্মজীবনের বেশ কিছু স্মরণীয় ঘটনা ঘটেছিল।
১৯৬২ সালের ২২ আগস্ট লিভারপুলের ম্যাথিউ স্ট্রিটের বিখ্যাত ক্যাভার্ন ক্লাবে বিটলস তাদের ১২৬তম দুপুরের পরিবেশনা দিচ্ছিল। এই দিনেই প্রথমবার বিটলসের পারফরম্যান্স টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। ম্যানচেস্টারভিত্তিক গ্রানাডা টেলিভিশন দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া অজস্র চিঠির পর ব্যান্ডটিকে নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে।
এর আগে ২৬ জুলাই সাউথপোর্টের কেমব্রিজ হলে গ্রানাডার প্রযোজকেরা ব্যান্ডটির পরিবেশনা দেখেছিলেন। পরে ২২ আগস্ট ক্যাভার্ন ক্লাবে ক্যামেরা নিয়ে হাজির হয় গ্রানাডার দল। সেদিন বিটলস ‘সাম আদার গাই’ গানটি পরিবেশন করে। ব্যান্ডে তখন সদ্য যোগ দিয়েছিলেন রিঙ্গো স্টার; পিট বেস্টকে কয়েক দিন আগেই বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ধারণ করা ভিডিওতে গান শেষ হওয়ার পর দর্শকদের মধ্য থেকে একজনকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘উই ওয়ান্ট পিট!’ সেই সময় ফুটেজটির মান এতটাই খারাপ মনে হয়েছিল যে তা সম্প্রচারের জন্য উপযুক্ত নয় বলে বিবেচিত হয়। ভিডিওটি তখন সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। বিটলস বিশ্বখ্যাত হওয়ার পর ১৯৬৩ সালের ৬ নভেম্বর গ্রানাডার ‘সিন অ্যাট সিক্স থার্টি’ অনুষ্ঠানে এটি প্রথমবার প্রচার করা হয়, যা ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।
চার বছর পর, ১৯৬৬ সালের ২২ আগস্ট বিটলস নিউইয়র্কে একটি আলোচিত সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়। উত্তর আমেরিকা সফরের অংশ হিসেবে ব্যান্ডটি আগের রাতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছিল। সেদিন তাদের বিশ্রামের দিন থাকলেও নিউইয়র্কের ওয়ারউইক হোটেলে চার সদস্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন।
সংবাদ সম্মেলনে বিটলসকে ভিয়েতনামের যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জন লেনন বলেন, "আমরা এটা পছন্দ করি না। আমরা যুদ্ধ পছন্দ করি না।" জর্জ হ্যারিসনও তখন বলেন, "যুদ্ধ অন্যায়, এটা স্পষ্ট।" জন লেননের ধর্ম নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্য সম্পর্কেও প্রশ্ন আসে। লেনন জানান, তিনি এ বিষয়ে আগেই যথেষ্ট বলেছেন এবং বারবার একই কথা বলতে চান না। পল ম্যাককার্টনি তখন আমেরিকায় এ বিষয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন।
সেই সংবাদ সম্মেলনে বিটলসের সংগীত নিয়েও বিভিন্ন প্রসঙ্গ উঠে আসে। ‘রিভলভার’ অ্যালবামে বেহালা ও ট্রাম্পেট ব্যবহারের কারণ, ‘ইয়েলো সাবমেরিন’ গানের অর্থ এবং বব ডিলানের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। ভারতীয় সংগীত এবং ভবিষ্যতে আলাদা করে গান রেকর্ড করার পরিকল্পনাও আলোচনায় আসে। ব্যান্ডের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে জন লেনন রসিকতায় ভরা উত্তর দেন। জনপ্রিয়তা কমে গেলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "তাতে কিছু যায় আসে না।" জর্জ হ্যারিসনও তখন বলেন, যাঁরা সত্যিই তাঁদের পছন্দ করেন, তাঁরা থাকলেই তাঁরা খুশি।
আরও দুই বছর পর, ১৯৬৮ সালের ২২ আগস্ট বিটলসের ইতিহাসে এক বড় সংকট দেখা দেয়। ‘হোয়াইট অ্যালবাম’ রেকর্ডিংয়ের সময় ব্যান্ডের ভেতরের টানাপোড়েন তখন ক্রমেই বাড়ছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রিঙ্গো স্টার ব্যান্ড ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেদিন অ্যাবে রোডের স্টুডিও টুতে সন্ধ্যা সাতটা থেকে পরদিন ভোর চারটা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত রেকর্ডিং চলেছিল।
পল ম্যাককার্টনির ‘ব্যাক ইন দ্য ইউএসএসআর’ গানটির মহড়ার সময় মূল বিরোধের সূত্রপাত হয়। রিঙ্গোর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মনে করছিলেন, তাঁর বাজানো ভালো হচ্ছে না। একই সঙ্গে তাঁর মনে হচ্ছিল, জন, পল ও জর্জ নিজেদের মধ্যে বেশি ঘনিষ্ঠ এবং তিনি যেন দলের বাইরের একজন। রিঙ্গো প্রথমে জন লেননের কাছে গিয়ে জানান, তিনি ব্যান্ড ছেড়ে দিচ্ছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, নিজেকে ভালো বাজাতে পারছেন না এবং অন্য তিনজনের মধ্যে নিজেকে 'বহিরাগত' মনে হচ্ছে। জনের উত্তর ছিল, "আমি তো ভেবেছিলাম তোমরা তিনজন!" এরপর রিঙ্গো স্টার পল ম্যাককার্টনির কাছেও একই কথা বলতে যান।
মতামত (0)