শিক্ষা

২৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: নিজস্ব ক্যাম্পাস ছাড়াই ভাড়া ভবনে পাঠদান

২৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: নিজস্ব ক্যাম্পাস ছাড়াই ভাড়া ভবনে পাঠদান
২৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: নিজস্ব ক্যাম্পাস ছাড়াই ভাড়া ভবনে পাঠদান
দেশের ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়াই ভাড়া করা বা অস্থায়ী স্থাপনায় শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পাচ্ছেন না।

দেশে বর্তমানে ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। এসব প্রতিষ্ঠান ভাড়া করা বা অস্থায়ী স্থাপনায় তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান চলছে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজির (ইউএফটিবি) শিক্ষা কার্যক্রম চলছে ভাড়া করা অস্থায়ী ক্যাম্পাসে। একটি তিনতলা নির্মাণাধীন ভবনকে বাইরে থেকে দেখে বিশ্ববিদ্যালয় মনে হয় না। সেখানে সাইবার সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ইউএফটিবি'র শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তিনটি ভিন্ন ভাড়া ভবনে। এর মধ্যে একটি ভবনে প্রশাসনিক কাজ চলে, অন্য দুটি ভবনে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। এই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো সাধারণ মানের একটি বিদ্যালয়ের সমান বা তারও কম।

এই ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে এখনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসের অভাবে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান মানসম্মত হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কার্যত বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে 'টেনেটুনে' পড়ালেখা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা যায়, ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪টি অনুমোদন পায় ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে। তৎকালীন সরকার এসব বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেয়। ঢাকার সাত কলেজের জন্য ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অনুমোদন পায় ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।

কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি নির্ধারণ করা হলেও অবকাঠামো নির্মাণ এখনো শেষ হয়নি। আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণের কাজও শুরু হয়নি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে বা একাধিক অস্থায়ী স্থাপনায় কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বছরের পর বছর পার হলেও এই অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।

স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ছয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এগুলো হলো জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। তিনটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হলো খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

চারটি চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় হলো চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ও ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ও এই তালিকায় রয়েছে।

অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে শুরু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণত দুই থেকে সাতটি বিভাগ নিয়ে কার্যক্রম চলছে। দু-একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ সংখ্যা এর চেয়ে বেশি রয়েছে।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানিয়েছেন, নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনুমোদন তার দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগেই হয়েছে। প্রায় সব কটিরই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের চেষ্টা হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়মকানুনের মধ্যে আনা। পাশাপাশি ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপরও তারা জোর দিচ্ছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...