প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে ৩১টি ব্যাংকের ‘কিউ ক্যাশ’ নেটওয়ার্কের ডিজিটাল সেবা ৪ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এতে কার্ড ও এটিএম লেনদেনসহ বিভিন্ন পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।
প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইনফরমেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেডের (আইটিসি) ‘কিউ ক্যাশ’ নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে সরকারি-বেসরকারি ৩১টি ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা বন্ধের জটিলতায় পড়েছে। নেটওয়ার্কের সেবা গ্রহীতা হওয়ায় এসব ব্যাংকের এটিএম বুথসহ বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন ছয় দিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। ৪ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই সেবা বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এই সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড সংক্রান্ত সব সেবা বন্ধ থাকবে। এছাড়া এনপিএসবি ফান্ড ট্রান্সফার, এটিএম ও সিআরএম সেবা, বাংলা কিউআর সেবা, বিকাশ ফান্ড ট্রান্সফার এবং পস (পয়েন্ট অব সেল) সেবাও বন্ধ থাকছে। তবে ‘কিউ ক্যাশ’ প্রযুক্তি ব্যবহার না করা ব্যাংকগুলোর কার্ড ও ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা হচ্ছে না।
আইটিসি একটি নোটিসে জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত স্থানান্তরের জন্য ‘কিউ ক্যাশ’ সদস্যদের সেবা ছয় দিন বন্ধ থাকবে। তবে কোন ধরনের সেবা বন্ধ থাকবে সে বিষয়ে আইটিসি স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি। আইটিসি মূলত ব্যাংকগুলোর ডেবিট, প্রিপেইড, ক্রেডিট কার্ডসহ এটিএম বুথের লেনদেনে প্রযুক্তিগত সেবা দিয়ে থাকে।
এই সেবার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এনপিএসবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নেটওয়ার্কও যুক্ত করে দেয় ‘কিউ ক্যাশ’। ব্যাংক এশিয়া ও এনআরবিসি ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে গ্রাহকদের লেনদেন বিষয়ক সমস্যার কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এনআরবিসি ব্যাংক উল্লেখ করেছে, ‘কিউ ক্যাশ’ নেটওয়ার্ক তার সদস্য ব্যাংকগুলোর জন্য একটি সিস্টেম মাইগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এনআরবিসি ব্যাংক আরও জানায়, এই কারণে নির্দিষ্ট কিছু কার্ড ও আন্তঃব্যাংক লেনদেন সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। সাময়িকভাবে ডেবিট, প্রিপেইড ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন বন্ধ ও সীমিত থাকবে এবং সিআরএম মেশিন থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন বন্ধ থাকবে। পস, বাংলা কিউআর এবং এনপিএসবির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও ক্রেডিট কার্ডের বিল জমা দেওয়াও বন্ধ থাকবে। তবে আরটিজিএস ও ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ সেবা চালু থাকবে বলে এনআরবিসি জানিয়েছে। ব্যাংক এশিয়া তাদের ওয়েবসাইটে প্রায় একই তথ্য দিয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাস্ট ব্যাংক জানিয়েছে যে ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের লেনদেন বন্ধ থাকলেও ডেবিট কার্ড সচল থাকবে। এই সময়ে ‘কিউ ক্যাশ’ নেটওয়ার্কে না থাকা ব্যাংকের সঙ্গে অর্থ লেনদেন করা যাবে। মধুমতি ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ডেবিট-ক্রেডিটসহ সব ধরনের কার্ড সেবা ও এনপিএসবি সেবা বন্ধ থাকবে।
মধুমতি ব্যাংক বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করেছে, “মধুমতি ব্যাংকের সকল ক্রেডিট/ডেবিট/প্রিপেইড কার্ড, এটিএম, আইবিএফটি এবং কিউআর লেনদেন পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এই সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।” গতকাল সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত ‘কিউ ক্যাশ’ সদস্য ব্যাংকগুলোর বেশিরভাগই সেবা বন্ধ হওয়া সংক্রান্ত বিষয়টি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেনি।
এ বিষয়ে জানতে ‘কিউ ক্যাশ’ নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠান আইটিসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সাইফুদ্দিন মুনিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া মেলেনি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর দেননি তিনি। প্রতিষ্ঠানটির ‘সহায়ক ডেক্স’ (হেল্প ডেক্স)-এ যোগাযোগ করলে আইটিসির কর্মকর্তা পরিচয়ে রিপন আহমেদ জানান, "আমাদের সদস্য ব্যাংক হচ্ছে ৩১টি। টেকনোলজি আপগ্রেডেশনের সময়ে সব সেবাই বন্ধ থাকবে তাদের। ব্যাংকগুলোকে তো জানানো হয়েছে।"
আইটিসির কাছ থেকে ‘কিউ ক্যাশ’ সেবা নেওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। এছাড়াও ব্যাংক আল ফালাহ, ব্যাংক এশিয়া, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক এবং মেঘনা ব্যাংকও এই তালিকায় আছে। মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ইসলামী, এনসিসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকও ‘কিউ ক্যাশ’ নেটওয়ার্কের সদস্য।
মতামত (0)