অর্থনীতি

রেস্তোরাঁ মালিকদের ৯ দফা দাবি: দাম বাড়ানোর অনুমতি ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান

রেস্তোরাঁ মালিকদের ৯ দফা দাবি: দাম বাড়ানোর অনুমতি ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান
রেস্তোরাঁ মালিকদের ৯ দফা দাবি: দাম বাড়ানোর অনুমতি ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি আজ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে খাবারের দাম সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বন্ধ, শুল্ক প্রত্যাহার এবং একক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয় রয়েছে। তারা দাবি করেছে, খরচ বাড়লেও দাম বাড়াতে না পারায় বিক্রি কমেছে।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি আজ শনিবার পল্টনের একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে। রেস্তোরাঁ খাতের সংকট মোকাবিলায় এই সংবাদ সম্মেলনে ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির মহাসচিব ইমরান হাসান সেখানে বক্তব্য দেন।

সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও পরিচালন খরচ বাড়লেও রেস্তোরাঁ মালিকেরা খাবারের দাম বাড়াতে পারছেন না। দাম বাড়াতে গেলে জেলা প্রশাসন হস্তক্ষেপ করছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে রেস্তোরাঁয় বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলেও দাবি করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে খাবারের দাম সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। একইসঙ্গে সম্পূরক শুল্ক ও উৎসে কর প্রত্যাহার এবং রেস্তোরাঁ ব্যবসার জন্য একক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অভিযানের নামে হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া, এলপিজি ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানিয়েছে, চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, ডিম, মসলা, শাকসবজিসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, পরিবহন, বাড়িভাড়া ও শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবারের দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মালিকেরা।

এ কারণে অনেক রেস্তোরাঁ পরিচালন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে বলে সমিতি উল্লেখ করেছে। মহাসচিব ইমরান হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রেস্তোরাঁ খাতের কাঁচামাল ও পরিচালন ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অথচ ব্যবসায়ীরা সেই অনুপাতে খাবারের দাম সমন্বয় করতে পারছেন না।

ইমরান হাসান আরও বলেন, দাম সমন্বয় করতে গেলে বিভিন্ন সময় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, রেস্তোরাঁর খাবারের দাম নির্ধারণে কাঁচামালের ক্রয়মূল্য, শ্রমিকের মজুরি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রকৃত ব্যয় যাচাই না করে মূল্য সমন্বয়ের কারণে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা বা নানামুখী হয়রানি করা বন্ধ করতে হবে বলে তিনি জানান। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি দাবি করেছে, একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে ১০ থেকে ১২ ধরনের অনুমোদন নিতে হয়। এতে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় সময় ও ব্যয় বাড়ছে।

এই সমস্যা সমাধানে রেস্তোরাঁ খাতের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস বা এক দরজায় সব সেবা চালুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সমিতির মতে, একক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অধীনে সমন্বিত লাইসেন্স ও তদারকি ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং রেস্তোরাঁর কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়াও সহজ হবে।

রেস্তোরাঁ খাতে বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ২ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে মালিক সমিতি। মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আদায়ের নামে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধের দাবিও করা হয়েছে। এছাড়া, অনিবন্ধিত রেস্তোরাঁ ও সড়কের পাশে খাবারের ব্যবসা (স্ট্রিট ফুড ব্যবসা) ভ্যাটের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।

বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সমন্বয়হীন অভিযান ও অহেতুক জরিমানার বিরুদ্ধেও অবস্থান জানিয়েছে সংগঠনটি। অভিযানের সময় রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির প্রতিনিধিকে সঙ্গে রাখার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। হয়রানি বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।

দেশে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত উল্লেখ করে সীমিত পরিসরে মাংস আমদানির অনুমতি চেয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, আমদানির সুযোগ তৈরি হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

এ ছাড়া, এলপিজি ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, লোডশেডিং কমানো, ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। রেস্তোরাঁর কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়ার দাবিও করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...