অর্থনীতি

অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা: ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়তে বিনামূল্যে বাংলা কিউআর লেনদেন

অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা: ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়তে বিনামূল্যে বাংলা কিউআর লেনদেন
অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা: ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়তে বিনামূল্যে বাংলা কিউআর লেনদেন
ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন সবার জন্য বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ব্যবস্থায় কোনো চার্জ বা ফি লাগবে না।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনৈতিক লেনদেনকে আরও আধুনিক ও সুবিধাজনক করে তোলা।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের এই পরিকল্পনার আওতায় কিউআর কোডের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হবে। এর জন্য কোনো গ্রাহককে কোনো ধরনের বাড়তি চার্জ বা ফি দিতে হবে না। এটি সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজলভ্য করবে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বনানী কাঁচাবাজারে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীর এই বক্তব্য বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ফুচকা বিক্রেতা, রিকশাচালক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সমাজের সকল পেশার মানুষকে এই কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের আওতায় আনা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে একটি ব্যাপক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ফুটপাতের বিক্রেতা বা যেকোনো ছোট ব্যবসায়ী খুব সহজেই টাকা গ্রহণ করতে পারবেন। তারা যেকোনো ব্যাংক কিংবা সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাকাউন্টে কিউআর কোড ব্যবহার করে এই লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।

অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেন, এই নতুন পদ্ধতির কারণে কাউকে আর কষ্ট করে নগদ ক্যাশ টাকা বহন করতে হবে না। এটি লেনদেন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করে তুলবে, যা দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রমে স্বাচ্ছন্দ্য আনবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ছোটখাটো কারিগরি চ্যালেঞ্জ বা সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই ধরনের সমস্যাগুলো দ্রুততার সাথে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

তিনি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের বহু উন্নত ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে ক্যাশলেস লেনদেন সহজ ও নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই সফল মডেলগুলো বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকও এই আন্তর্জাতিক চর্চাকে দেশের মধ্যে সার্বজনীন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। তারা এই ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতিকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট রয়েছে।

‘এক দেশ এক কিউআর— বাংলা কিউআর’ পদ্ধতিটি বাধ্যতামূলক করার পর থেকে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এটি এই পদ্ধতির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও কার্যকারিতার প্রমাণ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ১১০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। এটি দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর কোড’ নামে এই সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি চালু হয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পুরনো কিউআর কোড সরিয়ে বাংলা কিউআর প্রদর্শন করা এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...