অর্থনীতি

আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের তিন দশকের আবাসন যাত্রা

আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের তিন দশকের আবাসন যাত্রা
আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের তিন দশকের আবাসন যাত্রা
আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন তিন দশকের বেশি সময় ধরে ১১ হাজারের বেশি পরিবারের আবাসন সুনিশ্চিত করেছে, যা আধুনিক স্থাপত্য ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে।

আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লিমিটেড দেশের আবাসন খাতে তিন দশকের বেশি সময় ধরে আস্থা ও গুণগত মানের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সুপরিকল্পিত নগর ভাবনা, আধুনিক স্থাপত্যশৈলী এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের সমন্বয়ে সাধারণ মানুষের আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্বপ্নের ঠিকানা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। সুদীর্ঘ এই যাত্রায় আস্থার পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে আবাসনশিল্পে প্রতিষ্ঠানটি একটি সুদৃঢ় অবস্থান অর্জন করেছে।

১৯৯৩ সালে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন যাত্রা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে এটি আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের প্রধান আবাসন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম বিস্তৃত করে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের কাজের পরিধিতে অ্যাপার্টমেন্ট, বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম, বাণিজ্যিক ভবন এবং বহুমুখী ব্যবহারের নান্দনিক স্থাপনা যুক্ত হয়েছে।

এই দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি ১১ হাজারের বেশি পরিবারের মানসম্মত আবাসন সুনিশ্চিত করেছে। আড়াই কোটি বর্গমিটারের বেশি সফল বাণিজ্যিক পরিসর যুক্ত করে এটি গ্রাহকদের কাছে এক বিশ্বস্ত ডেভেলপার হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছে। রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকাগুলোতে আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের কাজের ছাপ ছড়িয়ে রয়েছে।

গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মহাখালী, উত্তরা, নিকেতন, সিদ্ধেশ্বরী, মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, মগবাজার, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, কাকরাইল ও মতিঝিলসহ রাজধানীর সর্বত্র তাদের সম্পন্ন ও চলমান নান্দনিক প্রকল্পগুলো বিস্তৃত। আধুনিক স্থাপত্য এবং কার্যকারিতার নিখুঁত সমন্বয়ে তৈরি এসব প্রিমিয়াম আবাসিক ও মেগা বাণিজ্যিক স্থাপনা নগরের স্থাপত্যশৈলীতে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। এই দীর্ঘ বিস্তার শুধু ভবন নির্মাণের হিসাব নয়, এটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক উভয় ধরনের জায়গার বদলে যাওয়া চাহিদা নিয়ে কাজ করার বহুমুখী অভিজ্ঞতা নির্দেশ করে।

যান্ত্রিক নগরজীবনে একটি অ্যাপার্টমেন্টের প্রয়োজন এখন আর ঘরের সীমানায় শেষ হয় না। ভবনে সুপরিকল্পিত প্রবেশপথ ও নির্গমন ব্যবস্থা, গাড়ি রাখার জায়গা এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রয়োজন। এর সঙ্গে জরুরি শিশুদের সময় কাটানোর পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তির জন্য সবুজের উপস্থিতি অপরিহার্য। এই ভাবনা থেকে আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে টেকসই পরিবেশবান্ধব উপকরণ, ইনডোর ল্যান্ডস্কেপিং ও ছাদবাগান যুক্ত করা হয়।

এ ছাড়া সুবিধাজনক অবস্থান ও জমির পরিসর অনুযায়ী প্রকল্পগুলোতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশস্ত এন্ট্রান্স, খোলা নিচতলা, দ্রুতগতির লিফট, শিশুদের খেলার জায়গা, জিম, সুইমিংপুল, কমিউনিটি স্পেস ও প্রার্থনা কক্ষ। ছোট ছোট জমি একত্র করে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার উদ্যোগ ঘনবসতিপূর্ণ শহরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও যৌথ সুবিধার নিশ্চয়তা দিচ্ছে।

আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের প্রকল্পগুলোতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের (বিএনবিসি) নিয়ম অনুসরণ করা হয়। ভূমিকম্পপ্রতিরোধী কাঠামোর প্রয়োগও নিশ্চিত করা হয়। উন্নত প্রযুক্তি ও মানসম্পন্ন সামগ্রী ব্যবহারের ফলে ভবনগুলোতে শব্দদূষণ কমে এবং প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

বাসিন্দাদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় বিভিন্ন ভবনের পরিকল্পনায় আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমনপথ, সিসিটিভি, ইন্টারকম ও প্রশিক্ষিত বাহিনীর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা রয়েছে। আবাসিক ভবনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক স্থাপনার ক্ষেত্রেও অগ্নিনিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের সর্বাত্মক উপযোগিতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় কল্যাণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় (সিএসআর) নিয়মিত অবদান রেখে আসছে। দুর্যোগকালীন ত্রাণসহায়তা, মহামারিকালীন জাতীয় তহবিলে অনুদান এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো মেগা অবকাঠামো প্রকল্পে কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের দায়িত্বশীলতার স্বাক্ষর রেখেছে। ১০ হাজারের বেশি গ্রাহকের অকৃত্রিম আস্থা ও ভালোবাসাকে সম্বল করে প্রতিষ্ঠানটির সামনে এখন অনেক দায়িত্ব রয়েছে।

নতুন প্রকল্পগুলোতেও ঘোষিত নকশা, আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং নিরাপত্তার অঙ্গীকার বাস্তবে পূরণ করা তাদের অন্যতম দায়িত্ব। এর মাধ্যমে আবাসন খাতে আগামী দিনের মানদণ্ড নির্ধারণ করতে আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লিমিটেড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...