ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গতকাল রাতে কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছে। ঘরের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রাইটনের কাছে ৩-২ গোলে পরাজিত হয়েছে দলটি। ম্যাচে ১০ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও ইউনাইটেড শেষ পর্যন্ত হার মেনেছে।
এই হার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের জন্য অর্ধশতাব্দীর একটি তেতো স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। গত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ইউনাইটেড ঘরের মাঠে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও কোনো ম্যাচে পরাজিত হলো। এর আগে ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম বিভাগ লিগে টটেনহামের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও তারা ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল।
প্রিমিয়ার লিগের দল ব্রাইটন ইউনাইটেডের অনেক বয়স্ক সমর্থকের কাছে সেই পুরোনো হারের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময়ে ইউনাইটেডের সোনালি সময়ের কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে যোগ দেননি; তিনি তখন সেন্ট মিরেনের কোচ ছিলেন। ইউনাইটেডের কিংবদন্তিতুল্য ক্লাস অব নাইন্টি টুর খেলোয়াড়েরা সেই সময় খুব ছোট ছিলেন।
চলতি বছর জানুয়ারিতে মাইকেল ক্যারিক অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরিয়েছিলেন। এই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে তাকে স্থায়ী কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার সঙ্গে চুক্তি হয়। তবে চলতি মৌসুমে দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যাচ্ছে।
মৌসুমে এ পর্যন্ত ৬ ম্যাচ খেলে ইউনাইটেড ৩টিতেই হেরেছে। এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে ৪ ম্যাচে তারা দুটি হার এবং একটি ড্র দেখেছে। কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ডে গতকাল রাতের হারটি তাদের মৌসুমের তৃতীয় পরাজয়।
‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’তে হারের ক্ষত ইউনাইটেড সমর্থকদের মনে এখনো টাটকা ছিল। এর ওপর ব্রাইটনের কাছে এমন হারে সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শেষ বাঁশি বাজার পর গ্যালারি থেকে ক্যারিকের দলের প্রতি দুয়োধ্বনি শোনা যায়। বেশির ভাগ ইউনাইটেড সমর্থকই তখন গ্যালারি ছেড়ে চলে যান, আর যারা ছিলেন, তারা দুয়ো দেন।



মতামত (0)