প্রসূন রহমানের চলচ্চিত্র ‘শেকড়’ আজ দেশের ১১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। স্টার সিনেপ্লেক্স, লায়ন সিনেমাস, শ্যামলী সিনেমা, বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স ও কুমিল্লার কে স্ক্রিনসহ এই হলগুলোতে ছবিটি প্রদর্শিত হবে।
ছবিটিতে দেশ, পরিবার, পরিচয়, স্মৃতি, বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং মানুষের শিকড়ের টানের গল্প দেখানো হয়েছে। এক যুগ পর কানাডাপ্রবাসী আকাশ আট বছর বয়সী মেয়ে সিমিনকে নিয়ে দেশে ফেরেন। প্রবাসে জন্ম ও বেড়ে ওঠা শিশুর চোখ দিয়ে বাবার জন্মভূমি ও বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে দেখা হয়।
সিনেমায় একক বাবা আকাশ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এফ এস নাঈম। তার মেয়ে সিমিন চরিত্রে দেখা যাবে মুনতাহা এমেলিয়াকে।
নির্মাতা প্রসূন রহমান জানান, শিশুটি প্রবাসের যান্ত্রিকতায় জন্মেছে ও বেড়ে উঠেছে। সে যখন প্রথমবার বাবার জন্মভূমি বা দাদির মায়াভরা মুখ দেখে, তখন তার বিস্ময়ভরা চোখ দিয়ে তিনি সময় ও দেশকে দেখার চেষ্টা করেছেন।
পরিচালক আরও বলেন, শিকড় থেকে যাঁরা দূরে চলে যান, তাঁরা দেশকে কীভাবে দেখেন, অনুভব করেন এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মকে কীভাবে সেই দেশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চান—এই বিষয়গুলোই ছবির মূল ভাবনা। অভিবাসীর চোখে এ সময়ের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেহারাটা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রসূন রহমান এর আগে ‘সুতপার ঠিকানা’, ‘জন্মভূমি’ ও ‘ঢাকা ড্রিম’ ছবিতে অভিবাসন, বাস্তুচ্যুতি ও আত্মপরিচয়ের সংকট তুলে ধরেছেন।
তিনি গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করেছেন, মানুষ কেন বারবার তার ফেলে আসা মাটির কাছে ফিরতে চায়। এই ফেরাটা শুধু দেখার জন্য নাকি নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার জন্য, সেই প্রশ্নও সামনে আসে। প্রবাসীদের কাছে দেশ অনেক সময় নস্টালজিয়ার জায়গা, কিন্তু আট বছরের শিশুটির কাছে দেশ এক নতুন আবিষ্কার।
এফ এস নাঈম বলেন, প্রবাসে যাঁরা থাকেন, তাঁদের অনুভূতি, মায়া, দেশের প্রতি, মায়ের প্রতি ভালোবাসা, পুরোনো প্রেমিকার প্রতি ভালোবাসা—সবকিছু মিলে এই গল্প। তিনি মেয়েকে নিয়ে মাটির টানে দেশে ফিরে যান। নাঈম আরও জানান, গল্পের প্রতিটি চরিত্রই নায়ক এবং প্রধান।



মতামত (0)