বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে আজমেরী হক বাঁধনের সাম্প্রতিক অর্জনগুলো যখন আলোচনার কেন্দ্রে, ঠিক তখনই নতুন একটি খবর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল তাঁর নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’
এই খবরটি এসেছে এমন এক সময়ে যখন বাঁধন অভিনীত রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ছবিটি ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে, যা দেশের জন্য একটি বিশাল অর্জন। সেই আন্তর্জাতিক সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের মাটিতে নতুন একটি ভিন্নধর্মী প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার খবর নিঃসন্দেহে তাঁর ভক্তদের জন্য দারুণ উৎসাহব্যঞ্জক। ‘গুলশানের চামেলি’ ছবিতে বাঁধন একজন আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করবেন, যা তাঁর অভিনয় জীবনের বৈচিত্র্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
মোহাম্মদ ইকবাল এর আগে ‘কিল হিম’, ‘ডেড বডি’ এবং ‘রিভেঞ্জ’
আজমেরী হক বাঁধনের বিনোদন জগতে যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে লাক্স
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাঁধনের পরিচিতি ও খ্যাতি আসে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমার মাধ্যমে। ছবিটি তাঁকে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে নিয়ে যায়, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এরপর তিনি বলিউডের ‘খুফিয়া’
নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’ প্রসঙ্গে বাঁধন তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এই ছবিতে তাঁর সহ
‘গুলশানের চামেলি’ ছবির গল্পটি বাংলাদেশের রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। এটি এমন একটি গল্প যেখানে সমাজের নির্মমতার শিকার একজন যৌনকর্মী কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন, যিনি কোনো অপরাধ না করেও ক্ষমতা ও সমাজব্যবস্থার নিষ্ঠুরতার শিকার হন। তাঁর জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাবে সিনেমার মূল কাহিনি, যা প্রচলিত বাণিজ্যিক ধারার বাইরে গিয়ে একটি ভিন্ন বার্তা দেবে।
ছবিটির আরেকটি বিশেষ দিক হলো এতে প্রচলিত অর্থে কোনো নায়ক থাকছে না। পুরো গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে একজন নারী, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নারীপ্রধান গল্পের এক নতুন ধারা উন্মোচন করবে। কেন্দ্রীয় চরিত্রের ইতিবাচক ও নেতিবাচক
‘গুলশানের চামেলি’ ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। বাঁধন ও মধুমিতা ছাড়াও এই ছবিতে অভিনয়ের কথা রয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী রোজিনা, জনপ্রিয় অভিনেতা আমিন খান এবং আশীষ খন্দকারের মতো গুণী শিল্পীদের। এই শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীদের সমাবেশ ছবিটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে এই ছবিটির শুটিং শুরু হবে।
বাঁধনের এই বৈচিত্র্যময় কাজের ধারা তাঁর অভিনয় জীবনের পরিপক্কতাকেই নির্দেশ করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর সাফল্য যেমন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছে, তেমনি দেশের ভেতরের ভিন্নধারার ছবিতে তাঁর অংশগ্রহণ স্থানীয় দর্শকদের কাছেও নতুন ধরনের গল্প পৌঁছে দিচ্ছে। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে, একজন শিল্পী হিসেবে তিনি শুধু নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না, বরং সব ধরনের চরিত্র ও গল্পের মাধ্যমে নিজের অভিনয় ক্ষমতাকে মেলে ধরতে চান।



মতামত (0)