সারাদেশ

আলোকচিত্রী খালেদের বিরুদ্ধে পাবনা জেলা বিএনপির অভিযোগ

আলোকচিত্রী খালেদের বিরুদ্ধে পাবনা জেলা বিএনপির অভিযোগ
আলোকচিত্রী খালেদের বিরুদ্ধে পাবনা জেলা বিএনপির অভিযোগ
পাবনা জেলা বিএনপি আজ সোমবার আলোকচিত্রী খালেদ হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনেছে। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে।

পাবনা প্রেসক্লাবে আজ সোমবার দুপুরে জেলা বিএনপির নেতারা এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এই সম্মেলনে পাবনা জেলা জাসাসের আহ্বায়ক ও আলোকচিত্রী খালেদ হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

পাবনা জেলা বিএনপি ‘খালেদ হোসেন পরাগের (ফটোগ্রাফার) ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি ও বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অসদাচরণের বিরুদ্ধে’ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে জানানো হয়, খালেদ হোসেনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের কপি সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেন বিএনপি নেতারা।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো লিখিত অভিযোগটি গতকাল রবিবার (৩০ আগস্ট) জমা দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগে ‘বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পাবনা জেলা জাসাস আহ্বায়ক খালেদ হোসেন পরাগ কর্তৃক জনমনে ভয়ভীতি, আতঙ্ক সৃষ্টি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং দলীয় নেতা–কর্মীদের সাথে অসদাচরণ করা প্রসঙ্গে’। এছাড়া গত ২৪ আগস্ট দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর আরেকটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়।

লিখিত অভিযোগে পাবনা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা উল্লেখ করেন, তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছেন যে খালেদ হোসেন ফেসবুকের মাধ্যমে পাবনার কতিপয় ব্যবসায়ীকে হুমকি দিচ্ছেন। বিভিন্ন আইডির মাধ্যমে ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও প্রচার হচ্ছে। এসব ঘটনা নিয়ে প্রতিনিয়ত জনগণের কাছে তাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

তারা আরও জানান, এসব বিষয়ে খালেদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি উত্তেজিত হয়ে অসদাচরণ করেন। বিএনপি নেতারা চান না যে ব্যক্তিবিশেষের কৃতকর্মের জন্য জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হোক। তারা খালেদ হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, খালেদ হোসেন পরাগ তার পদমর্যাদা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করছেন। তিনি পাবনার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল থেকে চাঁদাবাজি, নিরীহ মানুষকে মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি সংস্থা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে সরকারি চাকরি দেওয়া ও সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টির কথাও বলা হয়েছে। অভিযোগকারী নেতারা জানান, তাদের কাছে এসব অপকর্মের পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। খালেদ হোসেনের কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গেও বিবাদের সৃষ্টি হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির নেতারা জানান, খালেদ হোসেনকে তার এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেছেন। উল্টো তিনি জেলা বিএনপিতে কোন্দল সৃষ্টি করেছেন এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসম্মানজনক কথা প্রচার করছেন, যা জেলা বিএনপির ভাবমূর্তির জন্য বিব্রতকর।

জেলা জাসাসের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে আনা লিখিত অভিযোগে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক আবদুস সামাদ খান, নূর মোহাম্মদ ও আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার এবং সদস্য মাহমুদুন্নবী ও মোছাব্বির হোসেনের সই রয়েছে। এই অভিযোগের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালকের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব উপস্থিত ছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনে শুধু জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নূর মোহাম্মদ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, পাবনা জেলা বিএনপির মধ্যে শৃঙ্খলা আছে এবং তারা এই শৃঙ্খলা নষ্ট হতে দিতে পারেন না।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, নূর মোহাম্মদ মাসুম বগা, সদস্য মাহমুদুননবী স্বপন, মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম মূসা, সদস্য সচিব রেহানুল ইসলাম বুলাল এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুজ্জামান প্রিন্সসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে সাংবাদিকরা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তর প্রশ্ন করতে চাইলে বিএনপি নেতারা অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, খালেদ হোসেন পরাগ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গতকাল রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, “একজন চিহ্নিত অসাধু ঠিকাদারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় সুবিধাভোগী কিছু বিএনপি নেতা আমার নামে বেশ কিছুদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছে না, কোথায় আমি জমি দখল করছি, কার কাছে চাঁদা চাইছি, কার কাছে ক্ষমতার অপব্যবহার করছি। এটা কোনো দিন বলতেও পারবে না।”

তিনি আরও বলেন, “পাবনা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় বিরোধ নেই। তারা কেন আমাকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে এসব বানোয়াট অভিযোগ করছেন, তা আমার বোধগম্য নয়।” খালেদ হোসেন পরাগ জানান, তিনি পাবনার বিতর্কিত ঠিকাদার শাহাদত হোসেনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তার অভিযোগ, এই ঠিকাদারের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া একটি পক্ষ একজোট হয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারে নেমেছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...