খেলাধুলা

আমিরাতে আফগান চ্যালেঞ্জ, স্পিন ও গরম নিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি

আমিরাতে আফগান চ্যালেঞ্জ, স্পিন ও গরম নিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি
আমিরাতে আফগান চ্যালেঞ্জ, স্পিন ও গরম নিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফল হওয়ার পর এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট মিশনে বাংলাদেশ। তীব্র গরম ও স্পিন উইকেটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চলছে বিশেষ প্রস্তুতি।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় এবং সিরিজ ড্র করার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নতুন এক মিশনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছেছে। ৯ অক্টোবর থেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলতে নামবে টাইগাররা। এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আমিরাতের মাটিতে এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান হলেও, এখানকার তীব্র গরম এবং সম্ভাব্য স্পিন-সহায়ক উইকেটই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আফগানিস্তান দলের স্পিন আক্রমণ তাদের ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান শক্তি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে পেসারদের বড় ভূমিকা ছিল। ডারউইনে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ নয় উইকেটে জিতেছিল, যেখানে পেসাররা দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন। তবে এবার সেই পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য তাসকিন আহমেদ এবং নাহিদ রানা দলে নেই।

তাসকিনকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এবং নাহিদ রানা চোটের কারণে স্কোয়াডের বাইরে রয়েছেন। এতে পেস আক্রমণে বাংলাদেশের শক্তি কমেছে কিনা, এমন প্রশ্ন উঠেছে। তবে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

আশরাফুল বলেছেন, "অস্ট্রেলিয়ার মাঠে নাহিদ রানা ছিল না, তারপরেও কিন্তু আমরা আধিপত্য বিস্তার করে একটা টেস্ট ম্যাচ জিতেছি।" তিনি আরও যোগ করেন, "দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচে আমাদের পেস বোলাররা অসাধারণ বল করেছে। যারাই খেলছেন, যারাই সুযোগ পাচ্ছেন, তারা কিন্তু ভালো করছেন।"

আশরাফুলের কথায় আত্মবিশ্বাসের সুর থাকলেও, আমিরাতের পরীক্ষা যে অস্ট্রেলিয়ার মতো নয়, তা বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট ভালোভাবেই জানে। এবার বাংলাদেশের সামনে স্পিনের ফাঁদ আসতে পারে বলে দল মনে করছে। আফগানিস্তানের ক্রিকেটে রশিদ খানদের হাত ধরে স্পিন বরাবরই বড় শক্তি।

আমিরাতের কন্ডিশনও স্পিনারদের জন্য সহায়ক হতে পারে। তাই প্রস্তুতিতেও তার ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ব্যাটারদের শুধু নেটে ব্যাটিং করানো হচ্ছে না, সম্ভাব্য স্পিন উইকেটের কথা মাথায় রেখে আলাদা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আশরাফুল জানান, "যখনই আমাদের একটু সময় থাকে, ফিল সিমন্স আমাদের এই ট্রেনিং দিয়ে থাকেন।" তিনি আরও বলেন, "পাকিস্তানের আগে যেমন স্কিল ট্রেনিংয়ের সময় বোলিং মেশিন এনেছিলাম, এবারও সব ধরনের বিকল্প মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আফগানিস্তান স্পিন উইকেটও দিতে পারে, তাই সেই ধরনের ট্রেনিংও করছি।"

শুধু স্পিন খেলার প্রস্তুতিই নয়, বাংলাদেশ দল পাঁচ দিনের ক্রিকেটের ধকল সামলানোর সক্ষমতাও বাড়াতে চাইছে। আমিরাতের গরমে দীর্ঘ সময় মাঠে থাকা সহজ হবে না। তাই গতকাল মঙ্গলবার প্রথম দিনের অনুশীলনেই ব্যাটারদের দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং এবং বোলারদের টানা স্পেল করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আশরাফুল বলেন, "মঙ্গলবার দুপুরের খাবারের আগে দুই ঘণ্টা এবং পরে আরও দেড় ঘণ্টার মতো অনুশীলন করেছি।" তিনি আরও জানান, "ব্যাটাররা যেন দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করতে পারে এবং বোলাররা যেন দীর্ঘ বিরতিহীন স্পেল করতে পারে, সেই অনুশীলনই করেছি। যাওয়ার আগে আমাদের এই প্রস্তুতিটাই চালিয়ে যাব।"

অস্ট্রেলিয়ায় সফল হতে বাংলাদেশকে গতি ও বাউন্সের সঙ্গে লড়তে হয়েছিল। আমিরাতে লড়াইটা হতে পারে ধৈর্য ও স্পিনের সঙ্গে। দুই কন্ডিশনের পার্থক্য এতটাই বড় যে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যকে সরাসরি আমিরাতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগানোর সুযোগ আছে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের প্রত্যাবর্তন সেই সুযোগকে আরও বড় করছে। জাকের আলী ফিরেছেন। তাওহীদ হৃদয়ের ফেরাটাও দলের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৩৫০ রানের ইনিংস খেলে জাতীয় দলে ফিরেছেন হৃদয়। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।

আফগানিস্তানের স্পিনের বিপক্ষে বাংলাদেশ শুধু প্রতিরোধ গড়তে চাইছে না, পাল্টা চাপ তৈরির অস্ত্রও খুঁজছে। দল বিবেচনা করছে যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে ব্যাটিং পরিকল্পনা কার্যকর হয়েছিল, সেটি আমিরাতের ধীরগতির উইকেটে কতটা কাজ করবে। নতুন কন্ডিশনে ব্যাটাররা আগ্রাসন ও ধৈর্যের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে পাবেন কিনা, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

যদি উইকেট প্রত্যাশার চেয়েও বেশি স্পিনবান্ধব হয়, তখন বাংলাদেশের পরিকল্পনা কতটা বদলাবে, তা-ও দলের ভাবনায় রয়েছে। এই বিষয়গুলোই ম্যাচের গতিপথ ঠিক করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...