খেলাধুলাআসিয়ান কাপের আগে বাংলাদেশ দলের প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল শুরু
আসিয়ান কাপের আগে বাংলাদেশ দলের প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল শুরু
আসিয়ান কাপের আগে জাতীয় ফুটবল দলে সুযোগ পেতে প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। কোচ টমাস ডুলি প্রথম দফায় পাঁচজন খেলোয়াড়কে ডেকেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, কানাডা, ইতালি ও জাপানের ফুটবলাররা রয়েছেন।
জাতীয় ফুটবল দলের কোচ টমাস ডুলি আসন্ন আসিয়ান কাপের আগে প্রবাসী ফুটবলারদের পরখ করে দেখছেন। জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে এই ট্রায়ালের মাধ্যমে। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ ও ফাহামিদুল ইসলামদের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি অন্য প্রবাসী ফুটবলারদের সুযোগ দিচ্ছেন।
প্রথম দফায় পাঁচজন প্রবাসী ফুটবলারকে ক্যাম্পে ডেকেছেন ডুলি। তাঁদের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে আরও কয়েকজনকে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কোচের। গত ২৮ আগস্ট থেকে জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হয়েছে।
গতকাল, রবিবার, কিংস অ্যারেনায় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ডুলি প্রবাসীদের ট্রায়াল নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "এই দলে তাদের (প্রবাসী ফুটবলার) অনেকেরই সুযোগ পাওয়ার সামর্থ্য আছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে পারফরম্যান্সের ওপর। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই জানে যে মূল বিষয়টা হলো পারফর্ম করা।"
প্রথম দফায় ট্রায়ালে ডাক পাওয়া পাঁচজন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাইফ কেরাওয়ালা, ইংল্যান্ডের ইউসুফ আহমেদ, কানাডার ইয়াসার তাহমিদ, ইতালির দেবজিৎ সরকার এবং জাপানের শুকি ইতোফুসা। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেমি-প্রো ক্লাব ওয়াশিংটন অ্যাথলেটিকে খেলা কেরাওয়ালা সবার আগে ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন।
গত শনিবার রোমানিয়ার চতুর্থ স্তরের ক্লাব সোমেসুল ওদোরেউয়ের ডিফেন্ডার ইয়াসার তাহমিদ ক্যাম্পে যোগ দেন। ইতালির চতুর্থ স্তরের ক্লাব এফসি সার্নিসের উইঙ্গার দেবজিৎ সরকারের গতকাল, রবিবার, ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। ইউসুফ আহমেদ ও শুকি ইতোফুসাও দ্রুতই ক্যাম্পে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
এই পাঁচজনের বাইরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল থেকে দুজন প্রবাসী ফুটবলারকে ডুলি ডাকতে পারেন। দলসূত্রের খবর অনুযায়ী, সব মিলিয়ে ট্রায়ালে প্রবাসী ফুটবলারের সংখ্যা আট থেকে নয়জনে পৌঁছাতে পারে।
শুধু প্রবাসীদের নয়, আসিয়ান কাপের আগে পুরো দলকেই নতুন করে যাচাই করছেন ডুলি। গত জুনে সান মারিনো ম্যাচের ক্যাম্পে অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৪০ জন নতুন মুখকে দেখে দল বাছাই করতে হয়েছিল তাঁকে। এবার তাই খেলোয়াড়দের আরও সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে চান কোচ।
ডুলি বলেন, "বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এবার চমৎকার পারফর্ম করছে, যা আগেরবার দেখিনি। এসেই অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ৪০ জন নতুন মুখ দেখে দল বাছাই করা কঠিন ছিল। কখনো খেলোয়াড়দের শতভাগ ফিটনেস থাকে না বা হালকা চোট থাকে। যারা যুব দল থেকে বা নতুন করে ফিরে এসেছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন বেশ ভালো করছে।"
ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ততার কারণে এখনো সব খেলোয়াড়কে একসঙ্গে ক্যাম্পে পাওয়া যাচ্ছে না। ক্লাব ফুটবলে খেলার কারণে হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমরা পরে ক্যাম্পে যোগ দেবেন। খেলোয়াড়েরা আরও আগে ক্যাম্পে এলে প্রস্তুতি ভালো হতো বলে ডুলি মনে করেন, তবে খেলোয়াড়দের ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ততাকে তিনি বাস্তবতা হিসেবেই দেখছেন।
ইংলিশ ফুটবলে দীর্ঘদিন খেলা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীকে নতুন করে কিছু শেখানোর প্রয়োজন নেই বলেও ডুলি মনে করেন। তিনি বলেন, "হামজার মতো পেশাদার খেলোয়াড়েরা জানে এই পর্যায়ের ফুটবলে তাদের ভূমিকা কী। তাদের নতুন করে কিছু শেখাতে হয় না। ও আসার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের সেরাটা দেবে, কারণ সে একজন নেতা।"
কিংস অ্যারেনায় এখন প্রস্তুতির শেষ ধাপ চলছে। দীর্ঘ বিরতির পর খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিট করে তোলা, চোটের ঝুঁকি কমানো এবং শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পরিকল্পনা সাজানোই ক্যাম্পে ডুলির মূল লক্ষ্য। কোচ জানান, মাঝে দুই মাসের বিরতি থাকায় খেলোয়াড়দের ওপর চাপ বাড়াতে সময় নিতে হচ্ছে।
ডুলি বলেন, "জাতীয় দলের মতো পর্যায়ে খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে সময় দিতে হয়। এতে খেলোয়াড়েরা ধীরে ধীরে অনুশীলনের চাপ নিতে পারে এবং চোটের ঝুঁকিও কমে আসে।"
দলের কয়েকজন খেলোয়াড় চোটের কারণে পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই। সোহেল রানা ও তপু বর্মণ চোটে ভুগছেন। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও কুঁচকির চোটে ভুগছেন।
জামাল ভূঁইয়াকে নিয়ে সতর্ক ডুলি বলেন, "জামালের কুঁচকিতে ছোট একটা টিয়ার আছে। তাকে নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এটি বাড়লে সে কয়েক সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাবে। আমরা অবশ্যই তাকে দলে চাই।"
ফিফা আসিয়ান কাপ ২৪ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে শুরু হবে। বাংলাদেশ দল ইন্দোনেশিয়ায় যাবে ১৯ সেপ্টেম্বর। গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ তিন দলই র্যাংকিংয়ে এগিয়ে রয়েছে—সিঙ্গাপুর ৩৩ ধাপ, মালয়েশিয়া ৪৫ ধাপ এবং স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ৬৩ ধাপ। ডুলি ক্যাম্পের খেলোয়াড়দের যাচাই-বাছাই করে ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল প্রস্তুত করতে চান। এই দলে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে প্রবাসীদের ট্রায়াল একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মতামত (0)