২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাঘ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী এবং জীববৈচিত্র্যের এক অপরিহার্য অংশ, যার সুরক্ষায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংরক্ষণ বিষয়ক মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় আয়োজিত একটি র্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রতিমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাঘের বৈশ্বিক সংখ্যা হ্রাসের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রায় একশ বছর আগেও বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ, যা বর্তমানে কমে মাত্র পাঁচ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, বাঘের অস্তিত্ব আজ এক গভীর হুমকির মুখে রয়েছে এবং এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই প্রজাতি আরও সংকটের সম্মুখীন হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের সুন্দরবনে ১২৪টি বাঘ রয়েছে, যা দেশের জন্য গর্বের বিষয়। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রায় ১৫টি এবং দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় আরও প্রায় ৫০টি বাঘ রয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন। এই সংখ্যাগুলো দেশের অভ্যন্তরে বাঘের বর্তমান অবস্থান নির্দেশ করে এবং এর সংরক্ষণে জাতীয় প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাঘকে আমাদের জাতীয় সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এর সংরক্ষণে সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বাঘ সম্পর্কে জানতে পারে এবং এর সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে, সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। এই অঙ্গীকার বাঘ সংরক্ষণে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার একটি অংশ।
বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ছিল অন্যতম, যেখানে প্রতিমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। র্যালিটি বাঘ সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে চিড়িয়াখানার প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে।
র্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী বাঘ গণনায় বরাদ্দকৃত বাজেট এবং এ সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বিষয়ে একটি প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বাঘ গণনার বিষয়টি বন বিভাগের আওতাধীন এবং এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি দায়িত্বাধীন নয়। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, বন বিভাগ তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার নবনির্মিত স্যুভেনির শপ উদ্বোধন করেন। এই স্যুভেনির শপটি দর্শনার্থীদের জন্য বাঘ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী বিষয়ক স্মৃতিস্মারক কেনার সুযোগ তৈরি করবে এবং এর মাধ্যমে চিড়িয়াখানার রক্ষণাবেক্ষণেও সহায়তা হবে বলে আশা করা যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহীনুর আলম, চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. হাবিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাঘের এই দ্রুত সংখ্যা হ্রাস শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বজুড়েই পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ। প্রতিমন্ত্রীর মতে, যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয় এবং মানুষকে সচেতন করা না যায়, তাহলে এই মহৎ প্রাণীটি অদূর ভবিষ্যতে আরও মারাত্মক সংকটের মুখে পড়বে। এই সংকট মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।



মতামত (0)