অর্থনীতি

বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের পণ্য-সেবা ক্রয়ে ২০০ কোটি পাউন্ড অর্থায়ন দেবে ইউকেইএফ

বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের পণ্য-সেবা ক্রয়ে ২০০ কোটি পাউন্ড অর্থায়ন দেবে ইউকেইএফ
বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের পণ্য-সেবা ক্রয়ে ২০০ কোটি পাউন্ড অর্থায়ন দেবে ইউকেইএফ
যুক্তরাজ্যের সরকারি সংস্থা ইউকেইএফ বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা ক্রয়ে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়ন সহায়তা দিতে প্রস্তুত। দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছে।

যুক্তরাজ্যের সরকারি রফতানি ঋণ সংস্থা ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স (ইউকেইএফ) বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা ক্রয়ে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়ন সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো জোরদার করার অংশ হিসেবে এই সংস্থাটি চলতি সপ্তাহে সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাজ্যের কোম্পানির প্রযুক্তি, দক্ষতা ও অর্থায়ন কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা চলছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য ইউকেইএফের অর্থায়নের সক্ষমতা ১০০ কোটি থেকে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সুবিধার আওতায় যোগ্য বাংলাদেশী ক্রেতারা পরিবহন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, বিমানবন্দর, উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা ব্যবহারের জন্য অর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবেন। এটি বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

ইউকেইএফ গ্যারান্টি, ঋণ ও বিমাসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক পণ্য সরবরাহ করে। এসব আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সরবরাহকারীদের সম্পৃক্ত প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হয়। ৬০টিরও বেশি স্থানীয় মুদ্রায় এ সহায়তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা বাংলাদেশের স্থানীয় অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সুবিধার মধ্যে বায়ার ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি, স্ট্যান্ডার্ড বায়ার লোন গ্যারান্টি, ডাইরেক্ট লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি এবং আর্লি প্রজেক্ট সার্ভিসেস গ্যারান্টি অন্তর্ভুক্ত। এই পণ্যগুলো বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন চাহিদা পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। যুক্তরাজ্যের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসেছে। তাদের আজ শুক্রবার পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকার কথা রয়েছে। এই সফরকালে দলটি বাংলাদেশের সরকার, ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছে। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও যুক্তরাজ্যের কোম্পানির সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।

প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বাণিজ্য কাউন্সেলর মার্ক বিরেল, ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের কান্ট্রি হেড সন্দীপ কুদতারকার এবং দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বাণিজ্যনীতি বিভাগের প্রধান রোহিণী আগরওয়াল। এই উচ্চপর্যায়ের দলটি বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করছে। তাদের আলোচনার অংশ হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, এইচএসবিসি এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইউকেইএফের অর্থায়ন সুবিধা কীভাবে বাংলাদেশের প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন চাহিদা পূরণ করতে পারে, তা নিয়ে এসব আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবার রফতানি বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এই অর্থায়ন কী ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা চলছে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।

মার্ক বিরেল বলেছেন, "যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এ সফরের মাধ্যমে সরকার ও ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত নেওয়া এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্তরাজ্যের কোম্পানি, দক্ষতা ও অর্থায়ন কোথায় সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, তা খুঁজে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।" তিনি জানান, এর মাধ্যমে উদ্ভাবন, প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে সহায়তা করার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোও অন্বেষণ করা হচ্ছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...