অর্থনীতি

সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজার ও উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা: বাণিজ্যমন্ত্রী

সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজার ও উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা: বাণিজ্যমন্ত্রী
সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজার ও উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারিত হয়। সম্প্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় বিবেচনা করেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান।

সয়াবিন তেল পুরোপুরি আমদানি-নির্ভর পণ্য। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর দামে ওঠানামা হলে দেশের বাজারেও সরাসরি এর প্রভাব পড়ে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। আমদানিকৃত ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দিষ্ট হিসাব পদ্ধতি রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের এফওবি (FOB) মূল্যের সঙ্গে জাহাজ ভাড়া, খালাস ব্যয়, বিমা, রিফাইনারির প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় এবং পরিবহনকালীন অপচয়সহ অন্যান্য খরচ যোগ করে স্থানীয় বাজারের চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মূল্যসূচক পর্যালোচনা করলেই এই হিসাবের সঙ্গে সহজেই মিলিয়ে দেখা সম্ভব।

দেশের ভোজ্যতেলের বাজার মূলত বেসরকারি খাতনির্ভর। আমদানিকারকরা দীর্ঘদিন লোকসানে থাকলে বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তাই বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ব্যবসায়ীরা যাতে লোকসানের কারণে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য না হন, সে জন্য যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতি মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করছে। এছাড়া দুই ঈদে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়মিত ওএমএস কার্যক্রমও চালু রয়েছে।

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ঋণপত্র (এলসি) খোলা এবং আমদানির সরবরাহ পাইপলাইন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

এদিকে, গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল এখন ২০৪ টাকায় বিক্রি হবে, যা আগে ছিল ১৯৯ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় ও পরিবহন খরচ বিবেচনায় নিয়ে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা এর আগে ছিল ১৯৫ টাকা। তবে, এবার সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হলেও পাম অয়েলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...