সারাদেশবেরোবিতে অসুস্থতায় পরীক্ষা অনুপস্থিতিতে জরিমানার সিদ্ধান্ত, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ
বেরোবিতে অসুস্থতায় পরীক্ষা অনুপস্থিতিতে জরিমানার সিদ্ধান্ত, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অসুস্থতার কারণে পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষার্থীদের জরিমানা দিতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর ক্যাম্পাসে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) অসুস্থতার কারণে মিডটার্ম ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে জরিমানা দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সচিব ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই ক্যাম্পাসে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ চলছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অসুস্থতাজনিত কারণে মিড সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ১২০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই জরিমানার পরিমাণ ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার পরই এই নিয়ম কার্যকর হবে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ক্যালেন্ডার এবং মিড উইকের নিয়ম থাকলেও বিভিন্ন বিভাগে তা সব সময় মানা হয় না। শিক্ষকেরা নিজেদের ইচ্ছামতো পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেন, ফলে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেন না। পরীক্ষার সময়সূচি না জানিয়ে হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়াকে শিক্ষার্থীরা জুলুমের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন।
ছাত্রশিবির সভাপতি এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থী পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করে পরীক্ষায় অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে যৌক্তিক, স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত। তিনি আরও জানান, অন্যথায় শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষার্থী বিরোধী সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন ইসলাম বলেন, অনেক বিভাগে মিড উইক নেই এবং শিক্ষকরা নিজেদের মতো পরীক্ষা নেন। তাদের ইচ্ছামতো পরীক্ষা নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা মিস করলে জরিমানা করা অযৌক্তিক এবং এটি এক ধরনের জুলুম। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য।
ইয়ামিন ইসলাম জানান, তারা নানা সমস্যার মধ্যে পড়াশোনা করে। তিনি জরিমানা ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, মিড উইক থাকবে এবং সেই অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে, তাহলে শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হবে না। তিনি শিক্ষকদের অনিয়মের কথা উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ও গঠনতান্ত্রিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম বলেন, এই জরিমানার টাকা কারও এক মাসের সিট ভাড়া অথবা ১৫ দিনের খাবার খরচের সমান। তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে আবারও ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা দিতে হবে, যা সত্যিই হতাশাজনক। তিনি প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীদের সমস্যা না বোঝার ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান মন্তব্য করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শ্রেণির শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করেন। অসুস্থতা বা বিভিন্ন কারণে মিড পরীক্ষা দিতে না পারলে শিক্ষক বা বিভাগের পরামর্শে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেত। তিনি মনে করেন, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীবান্ধব নয়।
ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোশারফ হোসেন বলেন, এই সিদ্ধান্ত তখনই কার্যকর হওয়া উচিত যখন একজন শিক্ষার্থী সেমিস্টারের শুরুতেই জানতে পারবেন তার পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিভাগের একটি নির্দিষ্ট একাডেমিক ক্যালেন্ডার থাকা উচিত, যেখানে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমের সময়সূচি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে বলে তিনি জানান।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মিস করার প্রবণতা কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সচিব ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, জরিমানা করাটা আসলে মুখ্য বিষয় নয়। তিনি বলেন, অকারণে বা ভিত্তিহীন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিড সেমিস্টার পরীক্ষা মিস করার প্রবণতা অনেক বেশি।
মতামত (0)