সারাদেশহাঁসের খোপে অজগর দেখে গৃহিণীর জ্ঞান হারানো, পরে সুন্দরবনে অবমুক্ত
হাঁসের খোপে অজগর দেখে গৃহিণীর জ্ঞান হারানো, পরে সুন্দরবনে অবমুক্ত
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে হাঁসের খোপে বিরাট এক অজগর দেখে এক গৃহিণী ভয়ে সংজ্ঞা হারান। পরে বন বিভাগ ও স্থানীয়রা ১১ ফুট লম্বা অজগরটি উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করে।
আজ সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন–সংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী এলাকার গাজীপাড়ায় একটি হাঁসের খোপ থেকে বিরাট এক অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। অজগরটি দেখে ভয়ে এক গৃহিণী সংজ্ঞা হারান। পরে বন বিভাগ ও স্থানীয় কমিউনিটি প্যাট্রোল গ্রুপের সদস্যরা এটি উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করেন।
প্রতিদিনের মতো সকালে ওই গৃহিণী তাঁর হাঁসের খোপ খুলতে গিয়েছিলেন। দরজা খোলার পর তিনটি হাঁস বেরিয়ে এলেও বাকিগুলো বের হচ্ছিল না। বিষয়টি দেখতে তিনি খোপের ভেতরে উঁকি দেন। সেখানে তিনি একটি মরা হাঁস এবং তার পাশেই কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকা বিশাল অজগরটি দেখতে পান।
এই দৃশ্য দেখে গৃহিণী ভয়ে চিৎকার দিয়ে সংজ্ঞা হারান। তাঁর স্বামী মোক্তার গাজী জানান, মোট নয়টি হাঁসের মধ্যে তিনটি বের হয়ে আসার পর বাকিগুলো না আসায় তাঁর স্ত্রী খোপের ভেতর উঁকি দিয়ে অজগরটি দেখতে পান। ‘সাপ, সাপ’ বলে চিৎকার করে তিনি জ্ঞান হারান।
গৃহিণীর চিৎকারে মোক্তার গাজী ঘর থেকে ছুটে আসেন এবং আশপাশের লোকজনও দ্রুত জড়ো হন। প্রতিবেশী ইসমাইল সানা জানান, সকালে হাঁসগুলো অস্বাভাবিকভাবে ডাকাডাকি করছিল। তাঁর ধারণা, অজগরটি দুটি হাঁস খেয়ে ফেলেছিল এবং আরেকটি হাঁস পেঁচিয়ে ধরেছিল।
ইসমাইল সানা আরও বলেন, বাড়ির পাশের সুন্দরবনের নদী সাঁতরে এসে খোপের ওপরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে অজগরটি ভেতরে ঢুকেছিল। খবর পেয়ে সকাল নয়টার দিকে বন বিভাগের সদস্য ও সিপিজির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় অজগরটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারে অংশ নেওয়া সিপিজির সদস্য জুলেখা বেগম জানান, তাঁরা কাউকে সাপটির কাছে যেতে দেননি। কেউ হাত দিলে সাপটি অন্য জায়গায় চলে যেতে পারত, সেক্ষেত্রে সেটিকে উদ্ধার করা কঠিন হতো। উদ্ধারের পর অজগরটিকে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনে নেওয়া হয়।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন জানান, অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩০ কেজি। প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে অজগরটিকে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া টহল ফাঁড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
অজগর উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রামের কৌতূহলী মানুষ মোক্তার গাজীর বাড়িতে ভিড় করেন। অনেকে তাঁদের মুঠোফোনে অজগরের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে অজগর উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, বন্য প্রাণী হত্যা না করার বিষয়ে প্রচার-প্রচারণার কারণে মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন। তিনি বলেন, আগে সাপ দেখলে অনেকে পিটিয়ে মেরে ফেলতেন, কিন্তু এখন বন বিভাগকে খবর দেন। এই সচেতনতার কারণেই আজ উদ্ধার হওয়া অজগরটি প্রাণে বেঁচে গেছে।
মতামত (0)