সারাদেশ

মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সখীপুরে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সখীপুরে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সখীপুরে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান সখীপুরে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত করলে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচিত করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সখীপুরবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, যদি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিজয়ী হন, তবে তিনি এই এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেবেন। মন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সখীপুর উপজেলা ডাকবাংলো চত্বরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই প্রতিশ্রুতি দেন।

সখীপুর উপজেলা বিএনপি তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এই বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার। মন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, আগামী ডিসেম্বর, জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

আহমেদ আযম খান জোর দিয়ে বলেন, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে জনগণের সরাসরি ভোটের নির্বাচন। তিনি উল্লেখ করেন, গত তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা কেন্দ্রে সিল মেরে পাস করে আসলেও এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাবে। মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, এবার কোনো সিল মারা হবে না এবং চেয়ারম্যান-মেম্বাররা জনগণের স্বাধীন ভোটে নির্বাচিত হবেন।

টাঙ্গাইল-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, তার দল বিএনপি আসন্ন এই নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। তিনি জানান, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল অথবা নিরপেক্ষ ব্যক্তিরাও এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। মন্ত্রী প্রিয় সখীপুরবাসীকে তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে আহমেদ আযম খান বলেন, তার দল বিএনপির ভেতর থেকে যারা মেধাবী, শিক্ষিত এবং জনপ্রিয়, তাদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি দলের ঐক্য বিনষ্ট না করার এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান। মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, দলের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টির কোনো চেষ্টা করা যাবে না।

আহমেদ আযম খান নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধারণ করতে এবং দলের বাইরে চিন্তা না করার পরামর্শ দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার তখনই শক্তিশালী হয় যখন দল ঐক্যবদ্ধ থাকে। মন্ত্রী আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকলে সকলের সামনে সুযোগ আসবে, কিন্তু যদি অস্থিরতা বা অধৈর্য দেখা যায়, তবে দল ও সরকার দুর্বল হয়ে পড়বে।

মন্ত্রী সখীপুরবাসীর উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, যদি সখীপুরবাসী তার হাতকে শক্তিশালী করে, তবে তিনি উন্নয়নের ধারাকেও সমানভাবে শক্তিশালী করতে পারবেন। তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন যে, যদি একটি ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান না থাকে, তবে তিনি উন্নয়ন বরাদ্দ দিলেও সেই চেয়ারম্যান রাতের আঁধারে তা ভিন্ন খাতে ব্যয় করতে পারে।

এতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে মন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, তিনি চান না তার অধীনস্থ ১০টি ইউনিয়ন এবং এই পৌর এলাকার জনগণ আগামী পাঁচ বছর কোনো উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হোক। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য তিনি বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যানদের নির্বাচিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

আহমেদ আযম খান সখীপুরের আটিয়া বন আইন বাতিলের বিষয়েও তার অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আটিয়া বন আইনের কারণে সখীপুরবাসী দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত ও পর্যুদস্ত। মন্ত্রী জানান, তিনি ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে দুবার এই বিষয়ে কথা বলেছেন এবং বনমন্ত্রীর সাথেও ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বৈরশাসক এরশাদ ১৯৮২ সালে সখীপুরবাসীকে নির্যাতন করার উদ্দেশ্যে এই আইনটি প্রণয়ন করেছিলেন। আহমেদ আযম খান প্রতিশ্রুতি দেন, যত দ্রুত সম্ভব এই বিতর্কিত আইন বাতিল করে তিনি সখীপুরবাসীকে এই নিপীড়ন থেকে মুক্তি দেবেন। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তিনি সবসময় সখীপুরবাসীর পাশে আছেন এবং বিএনপি জনগণের দল হিসেবে সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...