অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে উদ্দেশ্য করে পরিচালক মোহাম্মদ ইকবালের ‘ম্যাডাম, আপনিই আমাদের সিনেমার হিরো’ উক্তিটি সম্প্রতি বিনোদন জগতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশি পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে জায়গা করে নেওয়ার সুখবরের রেশ কাটতে না কাটতেই বাঁধনের নতুন এই দেশীয় সিনেমায় যুক্ত হওয়ার খবর এসেছে। মোহাম্মদ ইকবাল পরিচালিত ‘গুলশানের চামেলি’ নামের এই ছবিতে বাঁধনকে একজন আইনজীবীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে।
পরিচালক ইকবালের কাছ থেকে এমন সম্মানজনক প্রস্তাব পেয়ে বাঁধন কাজটি করতে বেশ আগ্রহী হয়েছেন। বুধবার দুপুরে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান যে, পরিচালকের সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে এবং ছবির গল্পটি তাঁর মন ছুঁয়ে গেছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়নি, তবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে, যা তাঁর এই নতুন যাত্রা শুরু করার ইঙ্গিত দেয়।
বাঁধন বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য তাঁকে যেভাবে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা তাঁর কাছে খুবই সম্মানের মনে হয়েছে। তিনি বলেন, একজন শিল্পীকে যথাযথ সম্মান জানানো এবং তাঁর প্রাপ্য সম্মানীর বিষয়টিই মূলত তাঁকে এই কাজটি করার জন্য উৎসাহিত করেছে। এই দিকটি একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করে।
২০০৬ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনোদন জগতে পা রাখা বাঁধন, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে নাটক, চলচ্চিত্র এবং ওয়েব সিরিজে নিজের অভিনয় দক্ষতা ও মেধার প্রমাণ দিয়েছেন। ২০১০ সালে ‘নিঝুম অরণ্যে’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক হয়েছিল, যা ছিল তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের প্রথম ধাপ। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি এনে দেয় আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবিটি, যা তাঁকে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয় এবং বিশ্বব্যাপী সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়।
‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এর অভাবনীয় সাফল্যের পর বাঁধন বলিউডের বিশাল ক্যানভাসে বিশাল ভরদ্বাজের ‘খুফিয়া’ ছবিতে কাজ করেছেন, যা তাঁর অভিনয় জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। সাম্প্রতিক সময়ে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে জায়গা করে নেওয়ার মাধ্যমে বাঁধনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। এই ধারাবাহিক সাফল্য তাঁর পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং তাঁকে বিশ্ব মঞ্চে একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’ প্রসঙ্গে বাঁধন ব্যাখ্যা করেন, ‘আমি তো সব সময় ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ বা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর মতো গল্প পাব না।’ তিনি অত্যন্ত বাস্তববাদী হয়ে বলেন, অভিনয় তাঁর পেশা এবং তিনি একজন শিল্পী হিসেবে সব ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, যা তাঁকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলবে। এর আগে সানি সানোয়ারের ‘এশা মার্ডার’ ছবিতে কাজ করেও তিনি একই ধরনের ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন, যা তাঁর অভিনয় জীবনের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।
বাঁধন মনে করেন, একজন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর সব ধরনের গল্পে কাজ করার সক্ষমতা থাকা উচিত এবং তা দর্শকদের সামনে বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরাও প্রয়োজন। এই ভাবনা থেকেই তিনি ‘গুলশানের চামেলি’ ছবিতে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছেন, যা তাঁর বহুমুখী অভিনয় প্রতিভাকে আরও একবার প্রমাণ করার সুযোগ দেবে এবং তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন শিল্পীর জন্য নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করা জরুরি।



মতামত (0)