বিনোদন

ভেনিসের পর এবার দেশীয় পর্দায় আইনজীবী বাঁধন, ইকবাল বললেন ‘ম্যাডাম, আপনিই হিরো’

ভেনিসের পর এবার দেশীয় পর্দায় আইনজীবী বাঁধন, ইকবাল বললেন ‘ম্যাডাম, আপনিই হিরো’
ভেনিসের পর এবার দেশীয় পর্দায় আইনজীবী বাঁধন, ইকবাল বললেন ‘ম্যাডাম, আপনিই হিরো’
ইকবাল ভাই বলেছেন, ‘ম্যাডাম, আপনিই আমাদের সিনেমার হিরো’ | প্রথম আলো ইকবাল ভাই বলেছেন, ‘ম্যাডাম, আপনিই আমাদের সিনেমার হিরো’ প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৫: ৩০ ছবি : বাঁধনের সৌজন্যে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের নতুন সিনেমা ‘দ্য ডিফি

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে উদ্দেশ্য করে পরিচালক মোহাম্মদ ইকবালের ‘ম্যাডাম, আপনিই আমাদের সিনেমার হিরো’ উক্তিটি সম্প্রতি বিনোদন জগতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশি পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে জায়গা করে নেওয়ার সুখবরের রেশ কাটতে না কাটতেই বাঁধনের নতুন এই দেশীয় সিনেমায় যুক্ত হওয়ার খবর এসেছে। মোহাম্মদ ইকবাল পরিচালিত ‘গুলশানের চামেলি’ নামের এই ছবিতে বাঁধনকে একজন আইনজীবীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে।

পরিচালক ইকবালের কাছ থেকে এমন সম্মানজনক প্রস্তাব পেয়ে বাঁধন কাজটি করতে বেশ আগ্রহী হয়েছেন। বুধবার দুপুরে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান যে, পরিচালকের সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে এবং ছবির গল্পটি তাঁর মন ছুঁয়ে গেছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়নি, তবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে, যা তাঁর এই নতুন যাত্রা শুরু করার ইঙ্গিত দেয়।

বাঁধন বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য তাঁকে যেভাবে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা তাঁর কাছে খুবই সম্মানের মনে হয়েছে। তিনি বলেন, একজন শিল্পীকে যথাযথ সম্মান জানানো এবং তাঁর প্রাপ্য সম্মানীর বিষয়টিই মূলত তাঁকে এই কাজটি করার জন্য উৎসাহিত করেছে। এই দিকটি একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করে।

২০০৬ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনোদন জগতে পা রাখা বাঁধন, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে নাটক, চলচ্চিত্র এবং ওয়েব সিরিজে নিজের অভিনয় দক্ষতা ও মেধার প্রমাণ দিয়েছেন। ২০১০ সালে ‘নিঝুম অরণ্যে’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক হয়েছিল, যা ছিল তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের প্রথম ধাপ। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি এনে দেয় আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবিটি, যা তাঁকে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয় এবং বিশ্বব্যাপী সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়।

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এর অভাবনীয় সাফল্যের পর বাঁধন বলিউডের বিশাল ক্যানভাসে বিশাল ভরদ্বাজের ‘খুফিয়া’ ছবিতে কাজ করেছেন, যা তাঁর অভিনয় জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। সাম্প্রতিক সময়ে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে জায়গা করে নেওয়ার মাধ্যমে বাঁধনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। এই ধারাবাহিক সাফল্য তাঁর পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং তাঁকে বিশ্ব মঞ্চে একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’ প্রসঙ্গে বাঁধন ব্যাখ্যা করেন, ‘আমি তো সব সময় ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ বা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর মতো গল্প পাব না।’ তিনি অত্যন্ত বাস্তববাদী হয়ে বলেন, অভিনয় তাঁর পেশা এবং তিনি একজন শিল্পী হিসেবে সব ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, যা তাঁকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলবে। এর আগে সানি সানোয়ারের ‘এশা মার্ডার’ ছবিতে কাজ করেও তিনি একই ধরনের ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন, যা তাঁর অভিনয় জীবনের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।

বাঁধন মনে করেন, একজন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর সব ধরনের গল্পে কাজ করার সক্ষমতা থাকা উচিত এবং তা দর্শকদের সামনে বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরাও প্রয়োজন। এই ভাবনা থেকেই তিনি ‘গুলশানের চামেলি’ ছবিতে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছেন, যা তাঁর বহুমুখী অভিনয় প্রতিভাকে আরও একবার প্রমাণ করার সুযোগ দেবে এবং তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন শিল্পীর জন্য নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করা জরুরি।

‘গুলশানের চামেলি’ ছবির গল্পটি রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সমাজের অভিজাত অংশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। এই সিনেমায় একজন যৌনকর্মী কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকবেন, যিনি কোনো অপরাধ না করেও ক্ষমতা ও সমাজব্যবস্থার নির্মমতার শিকার হন। তাঁর জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়েই ছবির মূল কাহিনী এক জটিল ও সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে এগিয়ে যাবে, যা দর্শকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ছবিটির একটি বিশেষ দিক হলো, এতে প্রচলিত অর্থে কোনো ‘নায়ক’ থাকছে না, যা বাংলা চলচ্চিত্রে একটি সাহসী পদক্ষেপ। সম্পূর্ণ গল্পটি একজন নারীকে কেন্দ্র করে নির্মিত হবে, যা নির্মাতার পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ নারীকেন্দ্রিক সিনেমা হতে চলেছে। এই কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই গল্পের বিভিন্ন বাঁকে উন্মোচিত হবে, যা চরিত্রটিকে আরও বাস্তবসম্মত ও ত্রিমাত্রিক করে তুলবে।

বাঁধন জানিয়েছেন, এই ছবিতে তাঁর পছন্দের অন্য অভিনয়শিল্পীরাও রয়েছেন, যা তাঁর মধ্যে একটি ইতিবাচক আস্থা তৈরি করেছে। সহশিল্পীদের প্রতি এই বিশ্বাস কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং একটি ভালো কাজের পরিবেশ তৈরিতেও সাহায্য করবে বলে তিনি মনে করেন। একটি শক্তিশালী দলবদ্ধ কাজ সব সময়ই ভালো ফল বয়ে আনে।

‘গুলশানের চামেলি’ ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার, যা ছবিটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়াবে। বাঁধন ও মধুমিতা ছাড়াও এই ছবিতে রোজিনা, আমিন খান এবং আশীষ খন্দকারের মতো গুণী ও অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীদের দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে এই ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২৩ সালের শেষে এসে একটি বড় ঘোষণা।

এই ছবিটি প্রচলিত বাণিজ্যিক সিনেমার কাঠামো থেকে কিছুটা ভিন্ন পথে হেঁটেছে, যা বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য এক নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। যেখানে প্রধান পুরুষ চরিত্রের অনুপস্থিতি এবং একজন নারীর জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ গল্প সাজানো, তা বাংলা চলচ্চিত্রে একটি নতুন ধারা তৈরির ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের গল্প নির্বাচন বাঁধনের মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের অভিনেত্রীর পেশাগত বিচক্ষণতারও পরিচায়ক, যিনি কেবল বাণিজ্যিক সাফল্যের পেছনে না ছুটে গল্পের গভীরতাকেও গুরুত্ব দেন।

সব মিলিয়ে, ‘গুলশানের চামেলি’ ছবিতে বাঁধনের যুক্ত হওয়া তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের পাশাপাশি দেশীয় সিনেমায় বৈচিত্র্যপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন সম্পূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তাঁর এই অভিনয় যাত্রা নিঃসন্দেহে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দর্শকদের কাছে তাঁকে একজন সাহসী ও বহুমুখী শিল্পী হিসেবে তুলে ধরবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...