সারাদেশ

বিধবা ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

বিধবা ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
বিধবা ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রায় ছয় বছর ধরে এক বিধবা নারীর ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার ভাতার টাকা ইউপি সদস্যের নগদ অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে এক বিধবা নারীর ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী মোছা. রহিমা বেগম তার ভাতার টাকা নিজের মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে ইউপি সদস্য মো. আব্দুল খালেকের ব্যবহৃত নগদ অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন। অভিযুক্ত আব্দুল খালেক দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

আব্দুল খালেক টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সর্বশেষ কমিটির সহসভাপতি এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বানেশ্বরপাড়া এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিধবা ভাতা কর্মসূচির একজন নিয়মিত সুবিধাভোগী।

রহিমা বেগম সর্বশেষ ২০২০ সালের জুলাই মাসে হাতে ভাতার টাকা পেয়েছিলেন। এরপর ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে সরকার সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে ভাতা পাঠানো শুরু করে। রহিমা বেগম জানান, তিনি ভাতার টাকা পাওয়ার জন্য তখন একটি মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন।

২০২০ সালের পর থেকে তিনি আর কোনো ভাতার টাকা পাননি। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখানে তিনি জানতে পারেন, তার নামে বরাদ্দ হওয়া টাকা নিয়মিত একটি অপরিচিত নগদ নম্বরে পাঠানো হচ্ছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগের পর অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই নগদ নম্বরটি টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আব্দুল খালেকের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে খোলা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত প্রায় ছয় বছর ধরে রহিমা বেগমের ভাতার টাকা ওই নম্বরে পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিটি অর্থই উত্তোলন করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের ভাই তার ছেলের হাতে ৭ হাজার টাকা দিয়ে যান। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রহিমা বেগমের বিধবা ভাতার টাকা এমআইএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে ০১৯১৭-৩৬৭৪৯২ নম্বরে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের মে মাসে ওই নম্বরে ১ হাজার ৯৬১ টাকা পাঠানো হয়। অফিস সূত্র বলছে, গত ছয় বছরে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। রহিমা বেগম বলেন, তিনি বিধবা ভাতা পেতেন, কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে এক টাকাও পাননি।

তিনি আরও জানান, অফিসে যোগাযোগ করলে তারা একটি নম্বর দিয়ে বলে, এই নম্বরে টাকা যায়। পরে গ্রামে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, নম্বরটি খালেক মেম্বারের। রহিমা বেগম বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি মেম্বার-চেয়ারম্যান কারও কাছে যাননি। তবে মেম্বারের ভাই তার ছেলের কাছে ৭ হাজার টাকা দিয়ে গেছেন বলে তিনি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. আব্দুল খালেক বলেন, কীভাবে তার নম্বর সেখানে গেছে, তা তিনি জানেন না। তিনি ওই মহিলার কার্ড করে দেননি বলেও দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, তার ওই সিমটি চার বছর আগে হারিয়ে গেছে।

সিম হারানোর বিষয়ে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন কি না জানতে চাইলে আব্দুল খালেক বলেন, তিনি কোনো জিডি করেননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আপস করা হয়েছে এবং এটি নিয়ে কেন এত কথা হচ্ছে। তিনি সরাসরি কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সিম হারিয়ে গেলে এবং ভাতার টাকা নিজে উত্তোলন না করলে কীসের ভিত্তিতে আপস করেছেন, এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে আব্দুল খালেক ফোন কেটে দেন। এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বলেন, ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...