সারাদেশ

মামলা নিষ্পত্তি ও তদন্ত গতিশীল করতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ

মামলা নিষ্পত্তি ও তদন্ত গতিশীল করতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ
মামলা নিষ্পত্তি ও তদন্ত গতিশীল করতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ
গতকাল রাজধানীতে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, তদন্তে গতি আনা এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সম্মেলনকক্ষে গতকাল শনিবার পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, তদন্তে গতি আনা এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। আদালত, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি এই কনফারেন্সের আয়োজন করে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে জেলার মামলা নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পুলিশ সুপারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। তদন্তে কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় মূল অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত আসামি যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। দ্রুত পরোয়ানা তামিল এবং সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

হত্যা মামলার ক্ষেত্রে সুরতহাল প্রতিবেদন, জব্দতালিকা ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সময়মতো আদালতে না আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মামলার পরপরই ভিকটিমের সুরতহাল প্রতিবেদন ও জব্দতালিকা এবং পরবর্তী সময়ে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে আদালতে পাঠানো নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল না হওয়ার বিষয়েও সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দ্রুত পরোয়ানা তামিল এবং সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত শর্ত, স্বেচ্ছাস্বীকৃতি এবং নির্ধারিত পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আইনের বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মেডিক্যাল প্রতিবেদন চাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট থানা থেকে যথাযথ রিকুইজিশন পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসক কর্মরত না থাকলে সংশ্লিষ্ট পদে থাকা চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বোর্ড গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করে মামলা গ্রহণ ও তদন্ত পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়। সিসি ক্যামেরার ডিভিআরসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস সঠিকভাবে জব্দ করা এবং মুঠোফোন জব্দের সময় সিমের তথ্য ও আইএমইআই নম্বর যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত শর্ত, স্বেচ্ছাস্বীকৃতি ও নির্ধারিত পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সম্মেলনে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সিআইডির পুলিশ সুপার, পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেল সুপার, সিভিল সার্জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পিপি, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও এতে যোগ দেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...